সাতটি শিয়াল রান্না করে রুটি দিয়ে খেলেন বরিশালের বাসিন্দারা

বরিশাল নগরীতে একাধিক শিয়াল হত্যা করে সেগুলোর মাংস রান্না ও বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বন্যপ্রাণী হত্যার এমন ঘটনার ছবি ও মাংস বিক্রির প্রচারণা প্রকাশ্যে আসার পর পরিবেশবাদী, পশুপ্রেমী এবং সচেতন নাগরিকরা জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দান খোলা এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি সাতটি শিয়াল ধরে হত্যা করেন। পরে সেগুলোর মাংস রান্না করে রুটির সঙ্গে খাওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই মাংস বিক্রির চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি এই বন্যপ্রাণীগুলো হত্যা করেন। এরপর ‘নাইম রাজ’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে জবাই করা শিয়ালের ছবি প্রকাশ করে মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপনসদৃশ একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টটি অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ছবি ও পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের পাশাপাশি বিভিন্ন পশুপ্রেমী ও পরিবেশবাদী সংগঠন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। তাদের অভিযোগ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে প্রচলিত আইনকে প্রকাশ্যেই উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা মনে করেন, বন্যপ্রাণী হত্যা করে তার মাংস বিক্রির প্রচারণা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।
বিজ্ঞাপন
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, শিয়াল প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী। খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রাণীর ভূমিকা রয়েছে। তাই এ ধরনের প্রাণী হত্যা এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা অন্যদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
তাদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগের বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় লোক পাঠানো হবে এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাবাসীর মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বন্যপ্রাণী হত্যার ঘটনাকে অমানবিক ও আইনবিরোধী উল্লেখ করে এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আইন থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব এবং আইন প্রয়োগে দুর্বলতার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাই বন্যপ্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত নজরদারি এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।








