Logo

কটিয়াদীর রৌহাডুবি বিলে লাল শাপলার মুগ্ধতা, ছুটছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:১৯
কটিয়াদীর রৌহাডুবি বিলে লাল শাপলার মুগ্ধতা, ছুটছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা
ছবি: প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নে কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাসসংলগ্ন রৌহাডুবি বিলে ফুটে থাকা লাল শাপলা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। বিস্তীর্ণ বিলজুড়ে ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলা দেখতে প্রতিদিন ভোরে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী দর্শনার্থী।

বিজ্ঞাপন

বর্ষার শেষ সময়ে শরতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে বিলপাড়ের কাশফুল। নীল আকাশ, হালকা কুয়াশা আর সবুজ পাতার মাঝে ফুটে থাকা লাল শাপলার সৌন্দর্য যেন পুরো এলাকাকে ভিন্ন এক রূপ দিয়েছে। ভোরের শিশিরে ভেজা শাপলার পাপড়িতে সূর্যের আলো পড়ে তৈরি করছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

স্থানীয়দের কাছে রৌহাডুবি বিল এখন ‘লাল শাপলার বিল’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। সূর্যের তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাপলা নুইয়ে পড়ায় ভোরেই এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ কাদামাটি পেরিয়ে বিলে গিয়ে শাপলা তুলে খোপায় গুঁজছেন, কেউ আবার ফুল হাতে ছবি তুলছেন। সব মিলিয়ে ভোরের সময়টায় বিলটি পরিণত হচ্ছে লাল শাপলার এক প্রাকৃতিক মেলায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকালে পরিবেশবাদী, সংস্কৃতিসচেতন ব্যক্তি, শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ রৌহাডুবি বিলে ভিড় করছেন। তবে বিলে নৌকার ব্যবস্থা না থাকায় দর্শনার্থীদের কাদামাটি পেরিয়ে শাপলার কাছে যেতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রৌহাডুবি বিল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই ছড়াচ্ছে না, স্থানীয় মানুষের জীবিকারও একটি উৎস হয়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে প্রতিদিন বিল থেকে বিপুল পরিমাণ শালুক আহরণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে উপকৃত হচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ।

অষ্টগ্রাম থেকে লাল শাপলা দেখতে আসা দর্শনার্থী মাধুরী রায় বলেন, ‘আমি অষ্টগ্রাম থেকে এখানে লাল শাপলা দেখতে এসেছি। দেখে অনেক ভালো লাগছে। তবে বিলে নৌকা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কাদামাটি পেরিয়ে বিলে যেতে হয়।’

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থী তানজিনা আক্তার বলেন, আমি এখানে প্রথম এসেছি। বিলের শাপলা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি। বিলের মাঝখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা ভালো করা হলে আরও বেশি দর্শনার্থী আসবেন।

ঘুরতে আসা হাসিবুর রহমান বলেন, আগে এখানে তেমন মানুষ আসতেন না। এখন লাল শাপলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। জায়গাটি বিনোদনের একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। সবাই নিজেদের মতো করে ছবি তুলছেন।

তিনি বলেন, আগামী মৌসুমে নৌকার ব্যবস্থা করাসহ পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে এই শাপলা বিলকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

কলেজশিক্ষার্থী হাবিব আহসান বলেন, এত লাল শাপলা আমি আগে কখনো দেখিনি। বান্ধবীদের সঙ্গে এখানে এসেছি। হাজার হাজার লাল শাপলা ফুটে আছে। প্রকৃতি যেন অন্যরকম সাজে সেজেছে। দেখতে খুবই সুন্দর লাগছে। তবে কাদামাটি পেরিয়ে ছবি তুলতে যেতে হয়। নৌকার ব্যবস্থা থাকলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।

সংস্কৃতিকর্মী রাজিব সরকার পলাশ বলেন, সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাসের পাশাপাশি রৌহাডুবি বিলের লাল শাপলাও এখন দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন আশপাশের এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে আসছেন। জলাধার সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করে বিলটির ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাসের রৌহাডুবি শাপলা বিলটি দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্য বহন করে টিকে আছে। ঐতিহ্যবাহী এই বিলের শাপলার সৌন্দর্য ধরে রাখতে এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণরা যাতে দলবদ্ধভাবে শাপলা তুলে বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট না করে, সে বিষয়েও স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD