রাজউক কলেজে শতাধিক শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়ার অভিযোগ, অভিভাবকদের মানববন্ধন

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে সাড়ে তিনশ’র বেশি শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। ‘টিসি নয়, প্রমোশন চাই’—এই দাবিতে কলেজটির সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত কলেজটির প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বিপুল সংখ্যক অভিভাবক অংশ নেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শত শত শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও নিয়মবহির্ভূত।
অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির যেসব শিক্ষার্থী এক বিষয়ে ৩৩ থেকে ৩৯ নম্বর পেয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের একই শ্রেণিতে বহাল রাখা হয়েছে। অথচ একই নম্বর পেয়ে একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য টিসি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
‘নট টিসি, ওয়ান্ট প্রমোশন’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে অভিভাবকদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে লেখা ছিল— “অন্যায় সিদ্ধান্ত মানি না”, “ভুল সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে”, “একটি বছর মানে একটি জীবন”, “কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস নয়”, “মেধাবী ও অমেধাবী—সকল শিক্ষার্থীদের নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে” এবং “শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্যের দায় কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে”।
বিজ্ঞাপন
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক অভিভাবক বলেন, “আমরা অন্যায় টিসি মানি না। প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা ও কলেজের অধ্যক্ষের কাছে আমাদের আবেদন—দয়া করে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন। শত শত শিক্ষার্থীকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করবেন না। একটি ভুল সিদ্ধান্ত পুরো জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।”
আরেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিসি দেওয়ার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। টিসি দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডের। তিনি আরও জানান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে তাকে বহিষ্কার না করে পূর্ববর্তী শ্রেণিতে রেখে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত মান উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
মনিরুজ্জামান নামের এক অভিভাবক বলেন, “আমার ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সে একটি বিষয়ে দুর্বল ছিল, কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ তার মান উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এখন তাকে টিসি দিয়ে বের করে দিতে চায়। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থীকে এভাবে বের করে দেওয়া যায় না। প্রমোশন না দিলেও তাকে একই শ্রেণিতে রেখে পড়ানোর কথা। শুধু আমার ছেলে নয়, সব শ্রেণি মিলিয়ে প্রায় ৩৬০ জন বা তারও বেশি শিক্ষার্থীকে টিসি দিতে চাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।”
বিজ্ঞাপন
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবকেরা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।








