অবশেষে ঢাবির হল ইফতার মেনুতে যুক্ত হচ্ছে গরুর মাংস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোতে আসন্ন ইফতার কর্মসূচির খাবারের তালিকা ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পর অবশেষে মেনুতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বঘোষিত তালিকায় থাকা মুরগির আইটেম বাদ দিয়ে সেখানে গরুর মাংস যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
আগামী ৪ মার্চ হলভিত্তিক ইফতার আয়োজনকে সামনে রেখে মেনু নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগি রাখার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ ছিল, শিক্ষার্থীদের মতামত না নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে কয়েকজন প্রতিনিধি দাবি করেন, ইফতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের পছন্দ-অপছন্দ উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে, গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগি রাখার সিদ্ধান্তকে তারা অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা এক পোস্টে লেখেন, নারী হলগুলোতে নিয়মিতভাবে গরুর মাংস রাখা হয় না। সেহরিতেও শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন অনুযায়ী গরুর মাংস পান না বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, ইফতারের আয়োজনটি বছরে একটি বিশেষ দিন—সেখানে গরুর মাংস না রাখলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে না।
শিক্ষার্থীদের আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে মেনু সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ও কবি জসিম উদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহিন খান জানান, রাতের ডিনার বক্সে চিকেনের পরিবর্তে বিফ রাখা হবে এবং চিকেন সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইফতারের তালিকায় পূর্বে নির্ধারিত আপেলও রাখা হবে না। অর্থাৎ, আগের পরিকল্পনায় যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতেই করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইফতারে গরুর মাংস না রাখার পেছনে কোনো সাংস্কৃতিক বিবেচনা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক শাহিন খান বলেন, তার কাছে বিষয়টি সে রকম মনে হয়নি। বরং প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো আয়োজন নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য। গত বছর আলোচনার মাধ্যমে তেহারি রাখা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ বছর প্রাথমিকভাবে চিকেন নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শাহবাগ থানার সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
মেনু পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সন্তোষ প্রকাশ করলেও, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন ডাকসু ও হল সংসদের নেতারা। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
বিজ্ঞাপন
ইফতারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের নীতিগত নমনীয়তার মধ্য দিয়ে সমাধানের পথে গেলেও, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।








