হলদে সবুজ আমের মুকুলে সেজেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

শীতের রিক্ততা ছাপিয়ে বইতে শুরু করেছে বসন্তের হাওয়া। প্রকৃতির এই পালাবদলে গাছে গাছে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আমের মুকুল। আর সেই হলদে-সবুজ মুকুলে অপরূপ সাজে সেজে উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
বিজ্ঞাপন
শীতের প্রকোপ কমতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আমগাছগুলো থোকা থোকা মুকুলে ছেয়ে গেছে। চিকন ডালপালা মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে। সূর্যের সোনালি আলো আর মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা মুকুল যেন বসন্তের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে। ক্যাম্পাসের বাতাসে ভাসছে মিষ্টি ঘ্রাণ, গুঞ্জন তুলছে মৌমাছি, উড়ছে রঙ-বেরঙের প্রজাপতি।
আমের মুকুল নিয়ে কবি আবদুর রহমান লিখেছিলেন—
‘আম গাছে ধরল মুকুল নতুন শাখে শাখে;
বিজ্ঞাপন
ফাগুন তাকে সাজিয়েছে নতুন কনের সাঝে;
কত মাছি আসে ছুটে; কত মধু নেয় যে চুষে;
কত পাখি গাইলো গান; মুকুলের মন সজীব চঞ্চল।’
বিজ্ঞাপন
তার সেই পঙক্তির বাস্তব প্রতিচ্ছবি যেন এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রান্তে।
আমতলা, ঝাল চত্বর, আইন অনুষদ প্রাঙ্গণ, ডরমেটরি ও বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির সামনে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের সজীব উপস্থিতি। গাছের নিচে জমতে শুরু করেছে ঝরে পড়া মুকুলের পরদ। শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে আমবাগানের ভেতর কিংবা পাশ দিয়ে হাঁটাহাঁটি করে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই রূপ।
দাওয়া অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়ূন বলেন, “ক্যাম্পাসের আম বাগানসহ বিভিন্ন প্রান্তে যখন একসঙ্গে মুকুল ধরে, তখন পুরো পরিবেশে এক ধরনের মিষ্টি ও হালকা ঘ্রাণ ভেসে বেড়ায়। ক্লাস শেষে অনেকেই এখানে এসে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করে। মাঝে মাঝে বাইরের দর্শনার্থীরাও বসন্তের এই দৃশ্য দেখতে আসে।”
বিজ্ঞাপন
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া জান্নাত কেয়া বলেন, “আমের মুকুল বসন্তের আগমনী বার্তাই জানিয়ে দেয়। শীতের মলিনতা ঝেড়ে ফেলে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন প্রাণের সুর। কচি পাতার সবুজ আভা, হালকা রোদ আর মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ক্যাম্পাসজুড়ে এক অন্যরকম আবহ তৈরি করেছে। প্রকৃতির এই পরিবর্তন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবন মানেই নতুন সম্ভাবনা।”
হলদে-সবুজ মুকুলে সেজে ওঠা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এখন যেন বসন্তের রঙে রঙিন এক জীবন্ত ক্যানভাস।








