ঢাবিতে চাঁদাবাজি ঘিরে উত্তেজনা, মুখোমুখি ডাকসু–ছাত্রদল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, দোকান ভাঙচুর ও উচ্ছেদ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর পরিস্থিতি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মিরাজ কোবাদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন এস্টেট ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) মিসেস ফাতেমা বিনতে মুস্তফা।
শনিবার রাতে ক্যাম্পাসে ভাঙচুর ও উচ্ছেদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও ঘিরে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে নামেন ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ একদল শিক্ষার্থী।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে সহিংসতা, মারামারি ও চাঁদাবাজির প্রবণতা বেড়েছে। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, দলের সঙ্গে যুক্ত চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণে না আনলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিরোধ করবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
অন্যদিকে রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয় ছাত্রদল। এ সময় সংগঠনের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ছাত্রদলের অভিযোগপত্রে বলা হয়, ডাকসুর কিছু প্রতিনিধি প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে ক্যাম্পাসের ভাসমান দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে একটি চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা দোকানগুলোতে ভাঙচুর ও উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
তাদের মতে, পুরোনো একটি ভিডিও কাটছাঁট করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, প্রায় দুই মাস আগের একটি ভিন্ন ঘটনার ভিডিও ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোর ব্যবস্থাপনা কীভাবে হচ্ছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত— সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ছাত্রদল তাদের দাবির বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ না এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করে ডাকসু। এতে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের চিহ্নিত না করলে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।








