জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জার প্রথা ভেঙে বাকৃবিতে ব্যতিক্রমী হল ফিস্ট

জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জার প্রথা ভেঙে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং হলের কর্মচারীদের সম্মানে ব্যতিক্রমধর্মী হল ফিস্টের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে কেক কেটে তিন দিনব্যাপী 'ক্রাউন অফ গ্রেস' নামক এই হল ফিস্টের উদ্বোধন করেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম।
প্রতিবছর ফিস্টকে কেন্দ্র করে পুরো হল বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হলেও এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীরা আলোকসজ্জা একেবারে কমিয়ে এনেছেন।
উৎসবের অন্যতম বিশেষত্ব হিসেবে যুক্ত হয়েছে 'ইনক্লুসিভ ডিনার'। সাধারণত প্রতিবছর গ্র্যান্ড ডিনারে কেবল শিক্ষার্থীরাই অংশ নিলেও এবার ডিনারের টেবিলে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে হলের কর্মচারীদের। যারা দিনরাত শিক্ষার্থীদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন, তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞাপন
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী পরাগ জানান, মাওলানা ভাসানী হল সবসময়ই তার ব্যতিক্রমী চিন্তাধারার জন্য ক্যাম্পাসে আলাদা পরিচিতি বহন করে। এই হল ফিস্ট স্মৃতিতে জড়িয়ে থাকবে সবসময় এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আয়োজন সম্পর্কে হলের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দুর্জয় বলেন, গত বারেও যেখানে পুরো হলের ব্লকজুড়ে যেভাবে আলোকসজ্জা করা হয়েছিল, এবার সেটা নেই। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চিন্তা ভাবনা যেভাবে জুনিয়রদের কর্মে ফুটে ওঠেছে তা আসলেই প্রশংসনীয়।
বিজ্ঞাপন
তিনদিন দিনব্যাপী এই উৎসবের কর্মসূচিতে রয়েছে বিভিন্ন খেলাধুলা, ফ্ল্যাশ মব, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, গ্র্যান্ড র্যালি। তবে সব ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ভাবনাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের এই দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করে মাওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শরীফ আর রাফি বলেন, "প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ফিস্টের সাফল্য কামনা করছি। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনা করে তারা যে বিদ্যুৎ অপচয় রোধে আলোকসজ্জা কমিয়ে এনেছে, সেজন্য তাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা এমন দায়িত্বশীল আচরণই প্রত্যাশা করি।"








