Logo

কোরবানির হাটে যেভাবে চিনবেন কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা পশু

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১৩ মে, ২০২৬, ১২:০৮
কোরবানির হাটে যেভাবে চিনবেন কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা পশু
ছবি: প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাটে জমে উঠেছে কেনাবেচা। তবে এ সময় অধিক লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্টেরয়েড, গ্রোথ হরমোন ও ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে পশু মোটাতাজা করছেন।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পশুর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু চেনার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া।

তিনি বলেন, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর নাক সাধারণত শুকনো থাকে এবং শরীর থলথলে দেখায়। এসব গরুর দেহে অতিরিক্ত পানি জমে থাকে। সামান্য হাঁটলেই তারা হাঁপিয়ে যায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যায়। অনেক সময় গরুগুলোকে ক্লান্ত ও অলস দেখায়, এমনকি দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এসব গরুর শরীরে হাত দিলে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়। আঙুল দিয়ে চাপ দিলে শরীরের অংশ দেবে যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে। রানের মাংস অস্বাভাবিক নরম হয় এবং হাড় তুলনামূলক দুর্বল থাকে।

অধ্যাপক আলম মিয়া জানান, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর খাবারের প্রতি আগ্রহ কম থাকে এবং তারা নিয়মিত জাবর কাটে না। অনেক সময় মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা বের হতে দেখা যায়। দীর্ঘ পথ হাঁটিয়ে হাটে আনার পর তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং বসে গেলে সহজে উঠতে চায় না।

সুস্থ গরু চেনার উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, সুস্থ গরুর নাক ভেজা থাকবে, চোখ উজ্জ্বল থাকবে এবং শরীরে হাত দিলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে। সুস্থ গরু সাধারণত চঞ্চল স্বভাবের হয়, খাবার দেখলে খেতে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত জাবর কাটে। এছাড়া তাদের চামড়া টানটান ও চকচকে থাকে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গরুর শরীরে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে যদি দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে, তাহলে সেটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা হওয়ার লক্ষণ। অন্যদিকে চাপ দেওয়ার পর দেবে থাকলে বুঝতে হবে শরীরে অতিরিক্ত পানি জমেছে।

খামারিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনেক খামারি হাতুড়ে চিকিৎসক বা কোয়াকদের পরামর্শে ডেক্সামেথাসন, প্রেডনিসোলনসহ বিভিন্ন স্টেরয়েড ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করেন। এসব ওষুধ পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ পশুর মৃত্যুও ঘটতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করতে হলে ২ থেকে ৪ বছর বয়সী স্বাস্থ্যবান গরু নির্বাচন, নিয়মিত কৃমিনাশক প্রয়োগ, সুষম খাদ্য সরবরাহ, ভিটামিন-মিনারেল প্রিমিক্স ব্যবহার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সঠিক ব্যবস্থাপনায় ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই একটি গরুকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মোটাতাজা করা সম্ভব।

ক্রেতাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক আলম মিয়া বলেন, কোরবানির পশু কেনার সময় শুধু আকার নয়, পশুর আচরণ, শ্বাস-প্রশ্বাস, নাকের অবস্থা ও চলাফেরা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সন্দেহ হলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD