ছাত্রীনিবাসে নিরাপত্তা প্রহরী কর্তৃক শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হল সংলগ্ন ফারিদা ছাত্রীনিবাসে নিরাপত্তা প্রহরী ও তার স্ত্রী কর্তৃক অসদাচরণ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১১ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে ভুক্তভোগী কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, সুনীতি শান্তি হলের নৈশপ্রহরী ও ফরিদা ছাত্রীনিবাসের নিরাপত্তা প্রহরী হানিফ এবং তার স্ত্রী রোজিনা বেগমের দ্বারা আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে মানসিক হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়ে আসছি। নিরাপত্তা প্রহরী হানিফ একাধিকবার শিক্ষার্থীদের কক্ষে বিনা অনুমতিতে প্রবেশসহ ব্যক্তিগত কাপড়চোপড়ে বিনা অনুমতিতে হাত দিয়েছেন। অতীতে তার বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগও রয়েছে। হানিফের স্ত্রী রোজিনা বেগমের পক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, মিথ্যা অভিযোগ এবং মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগ তোলা হয়।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এছাড়াও হানিফ ও তার স্ত্রী শিক্ষার্থীদের রাত ১১টার পর তাদের কক্ষে গিয়ে মিটিং করতে বাধ্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে, তার স্ত্রীর আনা মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি এক শিক্ষার্থীকে মারধরের হুমকি দেন এবং সেখানে তার ছেলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে বাধা প্রদান করে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, অভিযুক্ত হানিফ কোনো অনুমতি বা দরজায় নক না করেই কক্ষে প্রবেশ করতেন। আমাদের অনুপস্থিতিতে ‘সিট দেখানোর’ কথা বলে রুমে ঢুকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রেও হাত দিতেন। তাঁর স্ত্রীও অপছন্দের ছাত্রীদের নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়রদের কাছে বিভিন্ন মানহানিকর মন্তব্য করতেন। যাদের তাঁদের পছন্দ হতো না, তাঁদের নানা উপায়ে হয়রানি করে মেস ছাড়তে বাধ্য করা হতো।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও মেসে চুরির অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে তিনি আমার রুমমেটকে মারধরের হুমকিও দেন। এছাড়া এক ছাত্রী ফ্রিজের কাছে গেলে সেখানে লাগানো ক্যামেরার বিষয় দেখিয়ে তাঁকে ডেকে নেওয়া হয় এবং ‘ওড়না ছাড়া কেন ফ্রিজের কাছে গেছেন’—এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে ওড়না পরে চলাফেরা করতে বলা হয়।
বিজ্ঞাপন
ওই শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন, তাঁকেও মেস ছাড়তে চাপ দেওয়া হয়। বলা হয়, তাঁর কারণে নাকি রুমমেটরা থাকতে পারছেন না। অথচ তাঁর সঙ্গে একজন রুমমেট তিন বছর এবং আরেকজন দুই বছর ধরে একই কক্ষে বসবাস করছেন।
আরেক নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তিনি প্রায়ই ছাত্রীদের মিটিংয়ে ডাকতেন এবং মিটিংয়ের জন্য ছাদে নিয়ে যেতেন। পরীক্ষার সময় থাকলেও আগে মিটিংয়ে উপস্থিত হতে বলতেন। এছাড়া রাত ১১টা-১২টার দিকেও বিভিন্ন অজুহাতে রুমে সমস্যা দেখতে আসতেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, রান্নার জন্য তাঁদের কাছ থেকেই গ্যাস সিলিন্ডার নিতে বাধ্য করা হতো। পরে বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানালে তিনি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন এবং বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এছাড়া বাসা থেকে বাইরে গেলে বা রাতে অন্য কোথাও থাকলে তাঁকে আগে থেকে জানাতে হতো বলেও অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।
এনিয়ে অভিযুক্ত নিরাপত্তা প্রহরী হানিফ অভিযোগপত্রে উল্লিখিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে ছাত্রীদের নিয়ে বৈঠক করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয় নিয়ে নিয়মিত মিটিং করা হতো। এখন আর এমন হয় না।
এছাড়া আরেক অভিযুক্ত রোজিনার পক্ষে তার স্বামী হানিফ আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বিজ্ঞাপন
তাছাড়া উক্ত বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সমাধানে ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাদেক হোসেন মজুমদারকে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল হাকিম কর্তৃক মৌখিক দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
এনিয়ে সাদেক হোসেন মজুমদার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রক্টর স্যার আমাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন। এরপরই আমরা ছাত্রীনিবাসে গিয়ে কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে আমরা দ্রুত অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবো।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল হাকিম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার জন্য আমরা নিরাপত্তা শাখার একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি তদন্ত শেষে আগামীকাল আমাকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবেন।








