Logo

উত্তাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, আবারও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
বরিশাল
১০ মে, ২০২৬, ২০:৪৭
উত্তাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, আবারও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় | ফাইল ছবি

পদোন্নতি জটিলতাকে কেন্দ্র করে আবারও অচলাবস্থার মুখে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। চলমান সংকট নিরসনে সিন্ডিকেট সভায় কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একই সঙ্গে আগামী ১১ মে থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। ঘোষিত কর্মসূচির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা পদোন্নতি সংকট সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক আধিপত্য বজায় রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে একই দাবিতে গত ২০ এপ্রিল থেকে টানা ১০ দিন আন্দোলন চালান শিক্ষকরা। সে সময় ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজট নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

পরে ৩০ এপ্রিল বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সংকট সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

তবে আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, ওই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করে সমস্যার সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরবর্তীতে তার বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে জরুরি নোটিশ দিয়ে পরদিন সকাল ১১টায় সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়। কিন্তু ওই সভায় অধিকাংশ সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং চলমান সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তারা।

রবিবার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—১১ মে থেকে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি পালন এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষক নেতারা বলেন, তারা শুরু থেকেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে হচ্ছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

নতুন কর্মসূচির ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকলে সেশনজট আরও তীব্র হতে পারে এবং শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, শিক্ষক-প্রশাসনের দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD