Logo

‘মিনি সুন্দরবন’ প্রকল্পে ধ্বংস হোগলা বন, হারালো পাখির আবাস

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
খুলনা
৯ মে, ২০২৬, ১৫:৪১
‘মিনি সুন্দরবন’ প্রকল্পে ধ্বংস হোগলা বন, হারালো পাখির আবাস
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাসে ‘মিনি সুন্দরবন’ গড়ে তোলার উদ্যোগকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলার পেছনে বধ্যভূমি সংলগ্ন ভাসমান হোগলা বনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে প্রায় দুই একর বনভূমি পুড়িয়ে ফেলেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল এস্টেট শাখার তত্ত্বাবধানে ওই এলাকায় আগুন দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম নেয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘মিনি সুন্দরবন’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বধ্যভূমি এলাকার জলাভূমিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগুন দিয়ে জায়গা পরিষ্কার করার পর সেখানে গোলপাতাসহ উপকূলীয় বনাঞ্চলের কিছু উদ্ভিদ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে একটি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, আগুন লাগানোর আগে এলাকাটি ছিল বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, জলজ প্রাণী ও ছোট ছোট জীবের নিরাপদ আবাসস্থল। হোগলা বনের ভেতরে পাখিদের বাসা ছিল এবং জলাভূমি ঘিরে একটি স্বাভাবিক পরিবেশ গড়ে উঠেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেখানে নিয়মিত সাদা বক, পানকৌড়ি, মাছরাঙাসহ নানা প্রজাতির পাখি দেখা যেত। কিন্তু আগুনের পর থেকে আগের মতো প্রাণচাঞ্চল্য আর চোখে পড়ছে না। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আগুনে পুড়ে যাওয়ার কারণে পাখি ও অন্যান্য প্রাণী এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইরুজ জাহিন খান বলেন, আগে এলাকাটিতে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের পাখির আনাগোনা ছিল। পানির ওপর গড়ে ওঠা হোগলা বনের মধ্যে তাদের আবাসও ছিল। পরে জানা যায়, সুন্দরবনের গাছ লাগানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আগুন দেওয়া হয়েছে। তার মতে, আগুন না দিয়ে পরিবেশবান্ধব কোনো উপায়ে এলাকা পরিষ্কার করা হলে জীববৈচিত্র্যের এত বড় ক্ষতি হতো না।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার প্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, মিনি সুন্দরবন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনায় এই কাজ করা হয়েছে। সেখানে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, বিশেষ করে গোলপাতা লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, পেট্রোল ব্যবহার করে হোগলা বন পুড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ হতে পারে না। এতে শুধু পাখি বা জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয়নি, বরং মাটির ও পানির জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, আগুনে ব্যবহৃত পেট্রোলের অবশিষ্টাংশ জলজ উদ্ভিদ, কেঁচো এবং উপকারী অণুজীবের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। তার মতে, সুন্দরবনের গাছ লাগাতে হোগলা বন ধ্বংস করার প্রয়োজন ছিল না, কারণ প্রাকৃতিক পরিবেশে গোলপাতা ও হোগলা একসঙ্গেই বেড়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে আরও পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মতামত নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD