Logo

ঢামেক চিকিৎসক ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, জরুরি বিভাগ বন্ধ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:৩২
ঢামেক চিকিৎসক ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, জরুরি বিভাগ বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে শুরু হওয়া এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন জরুরি সেবা নিতে আসা রোগীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ঢাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, বিকেলে ঢাবির এক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে জরুরি বিভাগে আসেন। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন দেন। তবে ওই ওষুধ হাসপাতালের ভেতরে সরবরাহ না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়। পরে শিক্ষার্থীটি তার কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে ফিরে এসে অভিযোগ করেন, নির্ধারিত ওষুধ বাইরে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং শিক্ষার্থীরা চিকিৎসকদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা মুহূর্তেই পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে তারা জরুরি বিভাগের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গুরুতর অসুস্থ রোগীরা বিপাকে পড়েন। অনেক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ওষুধ সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের পর থেকে জরুরি বিভাগে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রয়েছে এবং পরিস্থিতি এখনো কিছুটা উত্তপ্ত।

বিজ্ঞাপন

একই তথ্য নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।

বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। তবে জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD