রাজধানীতে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, সীমিত সরবরাহে ভোগান্তি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। এর প্রেক্ষিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেল সংগ্রহে বাড়ছে চাপ, দেখা যাচ্ছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানবাহনের সারি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফোটার আগেই মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ নানা ধরনের যানবাহন তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক চালক দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনমতো জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, যার ফলে চাপ আরও বেড়ে গেছে। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হচ্ছে এবং লাইনে অপেক্ষার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, সীমিত সরবরাহের কারণে তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি দিচ্ছেন। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ লিটার এবং প্রাইভেটকার বা অন্যান্য যানবাহনের জন্য ১০ থেকে ২০ লিটার পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দেশের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং আগামী তিন মাসের জন্য প্রয়োজনীয় তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, চলতি মাসের চাহিদা মেটাতে কোনো ঘাটতি নেই এবং ইতোমধ্যে তিন মাসের পেট্রোল ও অকটেন মজুত রাখা হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, সরবরাহে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা থেকেই সাধারণ মানুষ তেল সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুজব বা আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই সবার মধ্যে সচেতনতা ও ধৈর্য্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।








