গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বায়তুল মোকাররমের ফুটপাতের অবৈধ দোকান

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। বিশেষ করে জিপিও লিংক রোডের দুই পাশের ফুটপাতজুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ অস্থায়ী দোকানপাট সরিয়ে দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর প্রায় পৌনে ১টার দিকে এই অভিযান শুরু হয়। এতে ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সম্পত্তি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। অভিযান চলাকালে যেসব অস্থায়ী দোকান এখনও সরানো হয়নি, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুরন: একদিনে রাজউকের ৮ মোবাইল কোর্ট
তবে অভিযান শুরুর আগেই খবর পেয়ে অনেক দোকানি তাদের দোকানপাট সরিয়ে নেন। এরপরও যেসব অবৈধ স্থাপনা অবশিষ্ট ছিল, সেগুলো উচ্ছেদ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ চালানো হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক কমিটির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
এর আগের দিন বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং যানজট কমাতে টিটিপাড়া মোড় থেকে ধোলাইপাড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় অনুমোদনহীন বাস কাউন্টার উচ্ছেদ করা হয়। ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সহযোগিতা করে।
প্রাথমিক জরিপে টিটিপাড়া মোড় থেকে ধোলাইপাড় পর্যন্ত সায়েদাবাদ কাউন্টারকেন্দ্রিক মোট ২৪০টি অবৈধ বাস কাউন্টার চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে চিহ্নিত অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে সড়ক বা ফুটপাত দখল না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। এই এলাকায় অভিযানে পরিচালনা করে অপসারণ করা হবে ২৪০ অবৈধ কাউন্টার।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে জানানো হয়েছে, সায়েদাবাদের পাশাপাশি রাজধানীর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে গতকাল। মগবাজার মোড় থেকে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি হয়ে কাকরাইল মসজিদ, মৎস্য ভবন ও আব্দুল গনি রোড হয়ে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন এলাকা এবং বাংলামোটর থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, হেয়ার রোড ও শিক্ষা ভবন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ডিএসসিসির কর্মকর্তারা জানান, নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ দখল ও অননুমোদিত স্থাপনা পুরোপুরি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চালানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন








