ঢাকা মহানগরে যুক্ত হচ্ছে আরও ৪ নতুন থানা

রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা জোরদারে নতুন আরও চারটি থানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় অবস্থিত পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এ ‘খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে কারওয়ান বাজারে নতুন একটি পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। সেখানে মূলত চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হবে। খিলক্ষেতে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালুর পর আরও কয়েকটি এলাকায় একই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
বিজ্ঞাপন
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, মোহাম্মদপুরের বেরিবাঁধের হাউজিং এলাকায় আবাসন পেলে দ্রুতই আরেকটি ক্যাম্প স্থাপন করব। বাড্ডা থেকে বেরাইদ এলাকা অনেক দূরে। সেখানেও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। গেন্ডারিয়া বা ওয়ারি এলাকার ঘুন্টিগড় এলাকায়ও আরেকটি ফাঁড়ি স্থাপন করব। এছাড়া মঞ্জুরিকৃত যেসব পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে, সেগুলো রি-এরেঞ্জ করে জনবহুল এবং অপরাধ প্রবণ এলাকায় নিয়ে যাচ্ছি। এই কাজেরই অংশ খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি।
গত ১৫-১৬ বছরে পুলিশের দিকে খুব বেশি নজর দেয়া হয়নি উল্লেখ করে সরওয়ার বলেন, সে সময় পুলিশ হয়তো একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে কাজ করেছে। এখন আমরা কাজ করছি জনগণের সেবার উদ্দেশ্যে। জনগণের পুরোপুরি নিরাপত্তা প্রদানের জন্য। দলমত নির্বিশেষে সব জনগণ আমাদের কাছে সমান। সেভাবে কাজ করছি।
পুলিশের আবাসন নিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে ডিএমপিতে প্রায় ৮ হাজার পুলিশ সদস্যের নতুন আবাসনের ব্যবস্থা পুলিশ হেডকোয়ার্টারের মাধ্যমে। নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়িতে আমাদের ১ হাজার ৬০০ ফোর্স থাকবে, ডেমরা পুলিশ লাইনে আমাদের ১ হাজার ৬০০ ফোর্স থাকবে। এছাড়া আমাদের মিরপুর পুলিশ লাইনস ওখানেও ২০ তলা একটি ব্যারাক আছে, আমরা গত মাসে উদ্বোধন করেছি। ছয় তলা পর্যন্ত ব্যারাক ২ হাজার ২০০ ফোর্স থাকবে। আমাদের পূর্বাচলে ২০ তলা একটি বিল্ডিং আছে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের। ওখানে আমাদের ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশন এবং ট্রাফিক উত্তর ডিভিশনের ফোর্স থাকছে ৮০০-৯০০।
বিজ্ঞাপন
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এরপর দিয়াবাড়িতে ১০ একর জায়গায় আমাদের পুলিশ লাইনস আছে, ওখানেও আমরা ট্রাফিক পুলিশসহ থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ শিগগিরিই নিয়ে যাব। ওখানেও আমরা আবাসন বর্ধিত করতেছি। বসিলা পুলিশ লাইনসে আমাদের ট্রাফিক তেজগাঁও ডিভিশনের প্রায় ২৫০ ফোর্সসহ অফিস করা হয়েছে। আমাদের এমটিও ওয়ার্কশপ যেটা রাজাবাগ পুলিশ লাইনে ক্রাউডেড, সেটা আমরা শিফট করে নিয়ে যাচ্ছি— শিফটিং কাজ চলতেছে। ওখানে ১৫০ থেকে ২০০ মেকানিক পুলিশ মেকানিকসহ ডিসি এমটিও ওয়ার্কশপ বসবে। আমাদের ডিএমপির একটি মোটর ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল আছে। এটাও গত বছর বসিলায় উদ্বোধন হয়েছে। ওটার কাজ চলতেছে। আর ফোর্থ হল ওখানে বসিলা পুলিশ ক্যাম্প বা মিনি থানা বলতে পারেন। এভাবে আমরা আমাদের আবাসন বৃদ্ধি করছি।
রাজধানীতে নতুন থানা স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকায় আমাদের আরও দুটি পুলিশ ফাঁড়ি আছে। রায়েরবাজার একটা পুলিশ ফাঁড়ি আছে সেটাকে আমরা আরও শক্তিশালী করব। রায়েরবাজারে পুলিশের একটি নতুন থানা হতে যাচ্ছে। এটার প্রস্তাব মন্ত্রণালয় পর্যায়ে রয়েছে। এটা শিগগিরিই আমরা পাশ করার চেষ্টা করছি। মোহাম্মদপুর, আদাবর ও হাজারীবাগের কিছু এলাকায় নিয়ে আরও একটি নতুন থানা করার চেষ্টায় আছি। এর বাইরেও বসুন্ধরা এলাকায় অর্থাৎ ভাটারা, বাড্ডা এবং খিলক্ষেত এলাকার অংশ ভেঙে ভাটারা এলাকায় আমরা বসুন্ধরা নামে আরও একটি থানা স্থাপন করব।
বিজ্ঞাপন
মো. সরওয়ার বলেন, আমাদের খিলগাঁও এলাকায় আরও একটি নতুন থানার প্রস্তাব আছে। আপনারা জানেন পূর্বাচল এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আওতায় যাচ্ছে। আমরা এখনো আদেশ পায়নি। পেলে আমরা ঐ এলাকায় পুলিশিং শুরু করব। পূর্বাচলে ৪টি থানা ও ৬টি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছি। এছাড়া পূর্বাচল এলাকায় ট্রাফিক ডিভিশন, এমটিও ওয়ার্কশপ সহ পুলিশ লাইন্স স্থাপনে ৬ হাজার ফোর্সের চাহিদা আছে।








