Logo

রাজধানীতে সড়ক-মাঠ দখল করে চলছে অবৈধ হাটের প্রস্তুতি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ মে, ২০২৬, ২১:৫৬
রাজধানীতে সড়ক-মাঠ দখল করে চলছে অবৈধ হাটের প্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ২৫টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট অনুমোদন দিলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে অসংখ্য অবৈধ পশুর হাট। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সড়ক, খালি জায়গা, আবাসিক এলাকা ও মাঠ দখল করে এসব হাট বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

বিজ্ঞাপন

তবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, অনুমোদনবিহীন কোনো পশুর হাট পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। অবৈধ হাট উচ্ছেদে ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালনা শুরু হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লালবাগের শহীদনগর, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, নবোদয়, মোহাম্মদিয়া হাউজিং, সাত মসজিদ হাউজিং জনতার বাজার, মিরপুরের ৬০ ফিট সড়কের মধ্য পীরবাগ এলাকা, নটর ডেম কলেজসংলগ্ন এলাকা, সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের পাশের ছাগলের হাট, মোহাম্মদপুরের সোনালী মাঠ ও আগারগাঁওয়ের কিছু মাঠ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া রাজধানীর আরও বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে অস্থায়ী হাট তৈরির অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যেসব স্থানে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন নেই, সেসব এলাকাতেও আগেভাগে প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ এবং বাঁশের খুঁটি বসিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে গরু আনা শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম বলেন, অনুমোদন ছাড়া কোথাও পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, আগারগাঁও এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একটি হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সেটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তিকে জরিমানাও করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

লালবাগ এলাকায় আরেকটি হাট নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ওই হাট পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, তাদের হাট বৈধ এবং সিটি কর্পোরেশনকে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করা হবে।

অন্যদিকে মোহাম্মদপুরের সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে অবৈধ ছাগলের হাট বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রতি বছর সেখানে ছাগলের হাট বসে। এবার কারা হাট নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে প্রভাবশালী কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নির্ধারিত ও ইজারাকৃত হাট ছাড়া অন্য কোথাও পশুর হাট পরিচালনার অনুমতি নেই। কেউ অবৈধভাবে পশু কেনাবেচা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করবে।

তিনি জানান, অনিয়ম ঠেকাতে প্রায় ১০০ জন কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করবেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে জানা গেছে, এবার রাজধানীতে ২৩টিসহ সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বৈধ অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে কাজলা ব্রিজসংলগ্ন এলাকা, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গা, শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড, পোস্তগোলা নদীপাড়, শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাব মাঠ ও আমুলিয়া মডেল টাউন।

এছাড়া বনশ্রী, শিকদার মেডিকেলসংলগ্ন এলাকা, দয়াগঞ্জ-জুরাইন রেলক্রসিং এলাকা ও গোলাপবাগের কিছু খালি জায়গাতেও অনুমোদিত পশুর হাট বসবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বৈধ অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তরা দিয়াবাড়ি, রানাভোলা এলাকা, মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং, কালশী বালুর মাঠ, খিলক্ষেতসংলগ্ন এলাকা, ভাটারা, মেরুল বাড্ডা, পূর্ব হাজীপাড়া, বছিলা, কাঁচকুড়া ও মস্তুল চেকপোস্টসংলগ্ন কিছু স্থান।

বিজ্ঞাপন

দুই সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব অনুমোদিত অস্থায়ী পশুর হাটে বেচাকেনা চলবে। তবে অবৈধ হাট বন্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD