Logo

সায়েদাবাদে দুই নারীর ঝগড়ায় প্রাণ গেল বাস হেল্পারের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:৪৫
সায়েদাবাদে দুই নারীর ঝগড়ায় প্রাণ গেল বাস হেল্পারের
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দুই নারীর মধ্যে তর্কাতর্কিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ফকির আলমগীর (৪৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি পেশায় বাসের হেল্পার ছিলেন। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শুক্কুর আলী নামে এক যুবকের ঘুষির আঘাতে ফকির আলমগীর রাস্তায় পড়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছেলে রবিউল আওয়াল জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার আলীগঞ্জে। বর্তমানে তারা সায়েদাবাদের করাতিটোলা এলাকায় বসবাস করেন। তার বাবা ফকির আলমগীর বাসের হেল্পার হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি দিনের বেলায় ভ্যানে করে শরবত বিক্রি করতেন। আর তার মা টুনি আক্তার সায়েদাবাদ বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে খিচুড়ি বিক্রি করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রবিউল জানান, মঙ্গলবার সকালে সমিতির কার্যালয়ের সামনে এক নারী ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় ওই নারীর সঙ্গে তার মা টুনি আক্তারের তর্কাতর্কি শুরু হয়। পাশে আলমগীর ও রবিউলও ছিলেন। এক পর্যায়ে ওই নারীর ছেলে শুক্কুর আলী সেখানে এসে তার বাবার সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তার বাবার বুকে এলোপাতাড়ি ঘুষি মারেন শুক্কুর। এতে তার বাবা ফকির আলমগীর রাস্তায় পড়ে যান। তখন রাস্তার ওপর থাকা ভাঙা ইটের একটি অংশ তার মাথায় ঢুকে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অন্তু দে প্রেম জানান, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে খিচুড়ি বিক্রেতা ও পান বিক্রেতার মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাস্তায় পড়ে ওই ব্যক্তি মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

এসআই অন্তু দে প্রেম আরও জানান, ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফকির আলমগীরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর সঙ্গে কারও সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও যাচাই করা হচ্ছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD