Logo

গাজী নজরুলের বাসায় মিলল মরিয়মের রেখে যাওয়া শেষ চিঠি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৫
গাজী নজরুলের বাসায় মিলল মরিয়মের রেখে যাওয়া শেষ চিঠি
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাড থেকে শুরু করে সাদা কাগজ—লাল ও কালো কালির আঁচড়ে লেখা প্রতিটি পাতায় ফুটে উঠেছে একটি সম্পর্কের টানাপোড়েন। কোথাও গভীর ভালোবাসার অনুভূতি, কোথাও বিশ্বাসভঙ্গের যন্ত্রণা। আবার কোনো কোনো লেখায় রয়েছে আক্ষেপ, ক্ষোভ এবং আত্মসম্মান ধরে রাখার দৃঢ় প্রত্যয়।

বিজ্ঞাপন

এমপি গাজী নজরুলের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা এসব চিঠিতে মরিয়মের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিভিন্ন আবেগঘন অধ্যায় উঠে এসেছে। চিঠিগুলোতে ভালোবাসার পাশাপাশি প্রতারণার অভিযোগ, সম্পর্কের জটিলতা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং তীব্র মানসিক কষ্টের কথাও লেখা রয়েছে। কোথাও নিজেকে ‘দাবার গুটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে, আবার কোথাও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ভেঙে না পড়ে নিজের অবস্থানে অটুট থাকার প্রত্যয় দেখা গেছে।

চিঠির একটি অংশে লেখা হয়েছে, ‘তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি, আমি হেরেছি তুমি জিতেছো।’ অন্য একটি লেখায় বলা হয়েছে, ‘ততটা সস্তা আমি নই।’ এসব বাক্যে সম্পর্কের ভেতরের গভীর মানসিক দ্বন্দ্ব, অভিমান ও কষ্টের চিত্র ফুটে উঠেছে।

জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা শেষ আক্ষেপ

বিজ্ঞাপন

জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাডে কালো কালিতে লেখা একটি পাতায় সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’

লেখাটিতে ভালোবাসার মানুষটির ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখে সম্পর্কে জড়ানোর পর শেষ পর্যন্ত সেই মানুষকেই বিপক্ষ পক্ষের ‘সেনাপতি’ হিসেবে দেখতে পাওয়ার বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।

অধিকারের লড়াই ও ভালোবাসার অপূর্ণতা

বিজ্ঞাপন

সাধারণ একটি পাতায় নিজের অবস্থান এবং ভালোবাসার অধিকার নিয়ে টানাপোড়েনের কথা লিখেছেন মরিয়ম। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী- কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ-এর। আর আমি ছিলাম বোকা...!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ...!!! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’

এই লেখায় অন্য নারীর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান, অধিকারবোধ এবং ভালোবাসাকে ভাগ করে নেওয়ার অনিচ্ছার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্ধেক ভালোবাসা পাওয়ার চেয়ে সেই সম্পর্ক থেকে সরে যাওয়াকে বেশি সম্মানের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বাসের বদলে দাবার গুটি হওয়ার আক্ষেপ

বিজ্ঞাপন

আরেকটি পাতায় বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘সে বলেছিল- আজ থেকে আমরা বন্ধু--চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’

এই লেখায় বন্ধুত্বের প্রস্তাবকে সরল মনে গ্রহণ করার পর নিজেকেই অন্যের পরিকল্পনার একটি ‘দাবার গুটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার অনুভূতি তুলে ধরা হয়েছে।

পরাজয় ও সতর্কবার্তার ইঙ্গিত

বিজ্ঞাপন

জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা অন্য একটি পাতায় ক্ষোভ, বিশ্বাসভঙ্গ এবং এর পরিণতি নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমি হেরেছি--- তুমি জিতেছো-- কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি, শৃঙ্গের শেষ বাড়িয়ে ও হাসতে হাসতে মুখে হাসি রেখেছি-- দেখে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’

এই লেখায় নিজের পরাজয়ের কারণ হিসেবে বিশ্বাসকে সামনে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে মুখে হাসি ধরে রাখার আড়ালে ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তার কথাও উঠে এসেছে।

আত্মসম্মান নিয়ে শেষ কথা

বিজ্ঞাপন

লাল কালিতে লেখা একটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় নিজের আত্মসম্মানের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই … তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই...!’

সংক্ষিপ্ত হলেও এই লেখায় সম্পর্কের প্রতি মায়া এবং নিজের আত্মসম্মানের মধ্যে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

তারিখসহ ধর্মীয় আমলের পাতাও উদ্ধার

বিজ্ঞাপন

চিঠিগুলোর সঙ্গে ‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখ লেখা একটি পাতাও উদ্ধার হয়েছে। ওই পাতায় ঘুমানোর আগে করণীয় কয়েকটি ধর্মীয় আমলের তালিকা রয়েছে।

পাতাটিতে লেখা হয়েছে, ‘১২-০৭-২০২৬ ঘুমানোর আগে ৬টি আমল : কালেমা পড়ে, দুরুদ শরীফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসী, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ২১ বার, আস্তাগফিরুল্লাহ ৩ বার, আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া এহিয়া, দুরুদ শরীফ ১১ বার, ইয়া আরহামার রাহিমিন ১১ বার।’

গাজী নজরুলের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া এসব হাতে লেখা পাতায় সম্পর্ক, ভালোবাসা, বিশ্বাসভঙ্গ, আক্ষেপ ও আত্মসম্মান রক্ষার নানা অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। কোনো কোনো লেখায় সম্পর্কের ভেতরের টানাপোড়েন ও মানসিক কষ্টের কথা উঠে এসেছে, আবার একটি লেখায় ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD