ঢাকায় ঘণ্টায় ভাঙছে ২ সংসার, বাড়ছে দাম্পত্য সংকট

রাজধানী ঢাকায় বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, আর্থিক টানাপড়েন এবং ব্যস্ততার কারণে একসময় ভেঙে যাচ্ছে বহু দাম্পত্য সম্পর্ক। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৪টি সংসার ভাঙছে। সে হিসাবে ঘণ্টায় প্রায় দুটি করে বিচ্ছেদ ঘটছে।
বিজ্ঞাপন
বিচ্ছেদের পরিসংখ্যানে নারীদের পক্ষ থেকে তালাকের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের শিক্ষা, আর্থিক সক্ষমতা এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। তবে নির্যাতন, অবহেলা ও দীর্ঘদিনের মানসিক অশান্তি থেকেও অনেক নারী বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
প্রেমের বিয়ে, আট বছর পর বিচ্ছেদ
রিয়াদ হাসান ও শাহনাজের (উভয়েরই ছদ্মনাম) সম্পর্কের শুরু প্রেম দিয়ে। পাঁচ বছরের সম্পর্কের পর ২০১৭ সালের জুনে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন তাঁরা। পুরান ঢাকায় শুরু হয় তাঁদের সংসার। রিয়াদ ব্যবসা করতেন, আর শাহনাজ সামলাতেন ঘরকন্না। ২০২১ সালে তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যাসন্তান।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কে তৈরি হয় দূরত্ব। রিয়াদকে সন্দেহ করতে শুরু করেন শাহনাজ। অন্যদিকে রিয়াদও তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন। পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব থেকে শুরু হওয়া টানাপড়েন ক্রমে ঝগড়া-বিবাদে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে তাঁদের আট বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে।
বর্তমানে রিয়াদ পুরান ঢাকায় থাকেন। আর মেয়েকে নিয়ে মিরপুরে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন শাহনাজ। তাঁর অভিযোগ, রিয়াদ সন্তানের ভরণপোষণের জন্য কোনো অর্থ দেন না। মাস্টার্স সম্পন্ন করা শাহনাজ এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।
শাহনাজের ভাষ্য, সন্তানের কথা ভেবে সংসার টিকিয়ে রাখার অনেক চেষ্টা করেও সফল হননি তিনি। রিয়াদ আবার বিয়ে করেছেন বলেও জানান শাহনাজ। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত না নিলেও আপাতত মেয়েকে নিয়েই ভাবছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ব্যস্ততা ও মতবিরোধেও ভাঙছে সংসার
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আরিফ ও নাজমার দাম্পত্য জীবনেও একই পরিণতি এসেছে। নয় বছর সংসার করার পর বিচ্ছেদ ঘটে তাঁদের। দুজনই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। কাজের ব্যস্ততার কারণে সংসারের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন এবং সাড়ে চার বছরের সন্তানকে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ বাড়তে বাড়তে একসময় তাঁদের সম্পর্ক জটিল আকার ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
এমন ঘটনা রাজধানীতে বিচ্ছিন্ন নয়। একই ছাদের নিচে বসবাস করেও বহু দম্পতির মধ্যে বাড়ছে মানসিক দূরত্ব। সময়ের সঙ্গে জমে থাকা ক্ষোভ, অবিশ্বাস ও মতবিরোধ একপর্যায়ে বিচ্ছেদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাঁদের।
দক্ষিণ সিটিতে তালাকের সংখ্যা বেশি
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ৭ হাজার ৫১৪টি তালাক কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় কার্যকর হয়েছে ২ হাজার ৮৫১টি তালাক।
বিজ্ঞাপন
এই হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ সিটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৮টি এবং উত্তর সিটিতে প্রায় ১৬টি তালাক কার্যকর হয়েছে। তবে দুই সিটির তথ্যের সময়সীমা আলাদা হওয়ায় তুলনার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
দক্ষিণ সিটির আগের বছরগুলোর তথ্যেও তালাকের উচ্চ হার দেখা যায়। ২০২৩ সালে সেখানে ৭ হাজার ৫৩০টি, ২০২৪ সালে ৭ হাজার ৬৯৫টি এবং ২০২৫ সালে ৮ হাজার ১৭৪টি তালাক কার্যকর হয়।
অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০২৩ সালে ৫ হাজার ৪১৪টি তালাকের আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে কার্যকর হয় ৫ হাজার ২৩০টি। ২০২৪ সালে ৫ হাজার ৪৫৯টি আবেদনের বিপরীতে কার্যকর হয় ৫ হাজার ৩০৫টি তালাক। ২০২৫ সালে ৫ হাজার ৮৪৭টি আবেদন জমা পড়লেও কার্যকর তালাকের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৩২৬টি।
বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে উত্তর সিটিতে ৩ হাজার ১৫৯টি তালাকের আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে কার্যকর হয় ২ হাজার ৮৫১টি। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, আবেদন করার পর আপসের মাধ্যমে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের হার ছিল ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
তালাকের ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পরিসংখ্যানে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারীদের পক্ষ থেকে তালাকের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
দক্ষিণ সিটিতে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাস পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৩৯৯টি তালাক কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে নারীদের পক্ষ থেকে ১৬ হাজার ৮৪৮টি এবং পুরুষদের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ৫৫১টি তালাক কার্যকর হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৮৬৭টি তালাকের আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে নারীদের পক্ষ থেকে আবেদন ছিল ১২ হাজার ৪৫০টি এবং পুরুষদের পক্ষ থেকে ৭ হাজার ৪১৭টি।
দুই সিটির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মোট ৪৩ হাজার ২৬৬টি তালাকের মধ্যে নারীদের পক্ষ থেকে ২৯ হাজার ২৯৮টি এবং পুরুষদের পক্ষ থেকে ১৩ হাজার ৯৬৮টি। অর্থাৎ পুরুষদের তুলনায় নারীদের পক্ষ থেকে তালাকের সংখ্যা প্রায় ২ দশমিক ১ গুণ।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের শিক্ষা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ বাড়ার সঙ্গে এই প্রবণতার সম্পর্ক রয়েছে।
আগে অনেক নারী নির্যাতন, অবহেলা কিংবা অসুখী দাম্পত্য জীবনের মধ্যেও আর্থিক নির্ভরতা ও সামাজিক চাপের কারণে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। তবে নারীদের পক্ষ থেকে তালাকের সংখ্যা বেশি হওয়াকে কেবল পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও অসম্মান থেকে মুক্তি পেতেও নারীরা বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন।
‘মনের অমিল’-এর আড়ালে নানা কারণ
বিজ্ঞাপন
তালাকের নোটিশে বহুল ব্যবহৃত কারণগুলোর একটি হলো ‘মনের অমিল’। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত শব্দবন্ধের আড়ালে থাকতে পারে দীর্ঘদিনের নানা দাম্পত্য সমস্যা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুকের চাপ, ভরণপোষণ না দেওয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মাদকাসক্তি, সন্দেহপ্রবণতা, আর্থিক সংকট এবং পারিবারিক হস্তক্ষেপ দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম কারণ।
এ ছাড়া প্রবাসী স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তি, একে অন্যকে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া, যোগাযোগের ঘাটতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাবও সম্পর্কের অবনতিতে ভূমিকা রাখে।
বিজ্ঞাপন
এসব সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে ছোটখাটো মতবিরোধ হিসেবে দেখা দিলেও সময়ের সঙ্গে গভীর সংকটে রূপ নেয়। সময়মতো আলোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাদকাসক্তির প্রভাব
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারও কিছু দাম্পত্য সম্পর্কে নতুন জটিলতা তৈরি করছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। ফেসবুক, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নতুন সম্পর্ক তৈরি, পুরোনো সম্পর্ক আবার সক্রিয় হওয়া কিংবা অনলাইন যোগাযোগকে কেন্দ্র করে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের ঘটনা বিচ্ছেদের কারণ হতে পারে।
এর পাশাপাশি মাদকাসক্তিও অনেক পরিবারে অশান্তি বাড়াচ্ছে। মাদক সেবনের পর নির্যাতন, পরিবারের প্রতি দায়িত্বহীনতা, অর্থের অপচয় এবং সন্দেহ-অবিশ্বাসের কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে চরম সংকট তৈরি হতে পারে।
তবে তালাকের নোটিশে সব সময় প্রকৃত কারণ সরাসরি উল্লেখ করা হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘মনের অমিল’, ‘মানসিক নির্যাতন’ কিংবা ‘দাম্পত্য কলহ’ হিসেবে কারণ লেখা থাকে। ফলে সরকারি নথিতে থাকা তথ্য দিয়ে বিচ্ছেদের পেছনের সব কারণ নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা কঠিন।
নোটিশ পৌঁছানো নিয়েও জটিলতা
দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, কিছু তালাকের নোটিশে স্বামী বা স্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা উল্লেখ থাকে না। ফলে নোটিশ পাঠানোর পর তা ফেরত আসতে পারে। আবার কেউ কেউ নোটিশ গ্রহণ না করলেও আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, তালাকের নোটিশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনর্মিলনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে নোটিশ যথাযথভাবে পৌঁছানো না গেলে সেই সুযোগ কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এ কারণে তালাকের প্রক্রিয়ায় সঠিক ঠিকানা, যথাযথ নোটিশ প্রদান এবং পুনর্মিলনের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ।
বিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় ধাক্কা সন্তানদের জীবনে
দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে গভীরভাবে পড়তে পারে সন্তানদের ওপর। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর তাদের মানসিক নিরাপত্তা, পড়াশোনা, সামাজিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পারিবারিক জীবন সম্পর্কে ধারণা প্রভাবিত হতে পারে।
বিচ্ছেদের পর সন্তান কার কাছে থাকবে, কে তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে এবং কীভাবে তার শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে—এসব প্রশ্ন অনেক পরিবারের জন্য নতুন সংকট তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সন্তানের কথা কিংবা সামাজিক চাপের কারণে নির্যাতনমূলক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাও সমাধান নয়। বরং সম্পর্কের অবনতি দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী দাম্পত্য কাউন্সেলিং, পারিবারিক সহায়তা এবং আইনগত পরামর্শের ব্যবস্থা করা জরুরি।
পারস্পরিক সহনশীলতা ও আলোচনার ঘাটতি বড় সংকট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ-অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজধানীতে উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা বেশি হলেও এটিকে সরাসরি বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং দাম্পত্য সম্পর্কে পারস্পরিক সহনশীলতা, ধৈর্য এবং আলোচনার মাধ্যমে যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রবণতা কমে যাওয়াই বড় সংকট।
রাজধানীর বিবাহবিচ্ছেদের পরিসংখ্যান তাই কেবল সংসার ভাঙার হিসাব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নগরজীবনের ব্যস্ততা, আর্থিক চাপ, পারস্পরিক আস্থার সংকট, নির্যাতন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং নারী-পুরুষের পরিবর্তিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা।
সম্পর্কের সমস্যা সময়মতো শনাক্ত করা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনের সময় পেশাদার সহায়তা নেওয়া অনেক দাম্পত্য সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সন্তানদের নিরাপত্তা, ভরণপোষণ ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব।








