মাজারে হামলার বিচার না হওয়ায় হতাশ সুফিবাদীরা

রাজধানীতে আলা হযরত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতিতে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম আলা হযরতের সংস্কার, দর্শন ও জীবনাদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে এ কনফারেন্সের আয়োজন করে ইমামে আযম ও আলা হযরত গবেষণা পরিষদ। ইমাম আহমদ রেযার ১০৮তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহাম্মদ অসিয়র রহমান আলকাদেরী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ও পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস কাজী মুহাম্মদ মুঈন উদ্দিন আশরাফী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির নির্বাহী চেয়ারম্যান আল্লামা আবুল কাশেম নুরী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন পীর মুফতি মোস্তাক আহমদ ওয়েসী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী মুহাম্মদ মুঈন উদ্দিন আশরাফী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকারের আমলে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ে বিভিন্ন মাজারে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা দেশের সুফিবাদী জনগোষ্ঠীকে হতাশ করেছে। সুফিবাদীরা ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত নন বলে তাঁরা এমন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দেশে বিরাজমান অরাজক পরিস্থিতি এবং আল্লাহর অলি ও দরগাহ-মাজারে হামলার বিচার না হওয়া উদ্বেগজনক। হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হলে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে। ‘নারায়ে তাকবীর’ স্লোগান দিয়ে মাজারে হামলা এবং কবর থেকে মরদেহ তুলে আগুনে পোড়ানোর ঘটনাকে ধর্মীয় পরিচয়ে আড়াল করারও সমালোচনা করেন তিনি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে ইসলাম শিক্ষা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ইসলামের সঠিক শিক্ষা না থাকায় মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া অনেক ছেলে-মেয়ে মাদকাসক্তি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, কঠিন এই সময়ে আলা হযরতের জীবন ও কর্ম অনুসরণ জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, আলা হযরত ইসলামের বাণী প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা করেন ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান, অধ্যক্ষ জসিম উদ্দীন আল আজহারী, মুফতি মাহমুদুল হাসান কাদেরী, অধ্যক্ষ বদিউল আলম রেজভী, মুফতি হাফেজ মুনিরুজ্জামান কাদেরী, পীর আবদুর রহিম আব্বাসী, খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী, পীর গিয়াস উদ্দীন তাহেরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহাম্মদ অসিয়র রহমান আলকাদেরী বলেন, বর্তমান যুবসমাজের একটি অংশ ঈমান-আকিদা বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তি-ভক্তির দিকে ঝুঁকছে। এ পরিস্থিতিতে ইমাম আলা হযরতের লেখনী ও গবেষণা গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে সঠিক পথ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভির দর্শন ও গবেষণা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে তাঁর অবদান অনুসরণযোগ্য।
বিজ্ঞাপন
কনফারেন্সে বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম, পীর, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম মুহাম্মদ ফজলুল হক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।








