'রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে, বাংলাদেশে পর্বতারোহন হারিয়ে যাবে'

ইউরোপের সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এলব্রুস অভিযান শেষে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রত্যর্পণ করেছেন পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় ধানমন্ডির রাশিয়ান হাউজে অতিথিদের কাছে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করেছেন শাকিল। পরে স্লাইড পরিদর্শন করে অভিযানের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আমরা যারা পর্বতারোহন করি, তারা অনেক স্বপ্ন বুনি। কিন্তু সেই স্বপ্নটা তখনই বাস্তবায়ন করতে পারি, যখন কোন প্রতিষ্ঠান আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। প্রতিটা অভিযানে একটা স্পন্সর পেতে আমাদের অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, পাকিস্তানেও পর্বতারোহীদের রাষ্ট্রীয় পদক দেওয়া হয়। সত্যি বলতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে, একটা সময় বাংলাদেশে পর্বতারোহন হারিয়ে যাবে।
পতাকা প্রত্যার্পন অনুষ্ঠান শেষে মাউন্ট এলব্রুস অভিযানের শাকিলের তোলা ৫০টি ছবি নিয়ে ফটো এক্সিবিশনের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন রাশিয়ান রাশিয়ান হাউজের ডিরেক্টর অ্যালেক্সান্দ্রা খ্লেভনয়ে।
বিজ্ঞাপন
বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রকিং ক্লাবের সেক্রেটারি সাদিয়া সুলতানা বলেন, আমাদের এই ছবি প্রদর্শনী আজ থেকে শুরু হয়েছে। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এটা আগামী পাঁচদিন চলবে।
পাখি বিশেষজ্ঞ ও অ্যান্টার্কটিকা অভিযাত্রী ইনাম আল হক, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি ডা. নিয়াজ আব্দুর রহমান, আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সীমান্ত দীপু।
এর আগে পতাকা প্রত্যর্পণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এম. জাকির হোসেন খান, ও জ্যাপের এডিটোরিয়াল কনসালটেন্ট আকিব সাফওয়ান।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় এলব্রুসের চূড়ায় পা রাখেন শাকিল। এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ অভিযান’ উপলক্ষে ঢাকার রাশিয়ান হাউসে শাকিলের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি।
অভিযানটির আয়োজন করেছিল যৌথভাবে রাশিয়ান হাউজ ইন ঢাকা এবং বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। অভিযানের পৃষ্ঠপোষকতায় টার্কিশ এয়ারলাইনস, জ্যাপ, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, আলিয়া শিপিং লিমিটেড, এমকে এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, নেচার ইনসাইটস এবং সহযোগিতায় আছে ইউএন ভলেন্টিয়ার (ইউএনভি) এবং কিরণ স্টাডি।








