Logo

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন, সহিংসতাকারীদের কঠোর বার্তা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৪:৩৩
মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন, সহিংসতাকারীদের কঠোর বার্তা
ছবি: সংগৃহীত

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মিরপুরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

মহিদুল ইসলাম জানান, মিরপুর-১, পল্লবী, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সব মিলিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য।

বিজ্ঞাপন

সহিংসতার ঘটনায় ইতোমধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মিরপুরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বুধবার শ্রমিকরা সড়কে নামেননি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন এবং উৎপাদন কার্যক্রমও চলছে। শ্রমিকরা কাজে ফিরে স্বাভাবিক উৎপাদন অব্যাহত রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে বলেও জানান মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। সমন্বিতভাবে কাজ করে যারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তাদের প্রতিহত করা হয়েছে।

আন্দোলনের নামে সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের সতর্ক করে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা পুলিশের দায়িত্ব। আন্দোলনের নামে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, কারখানায় আগুন দেওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। প্রকৃত শ্রমিকরা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে যারা এসব অপরাধ করাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল এবং পোশাকশিল্প খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

মহিদুল ইসলাম আরও বলেন, অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক বা যত ষড়যন্ত্রই করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ যেন জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD