শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজট

পুরোনো গবেষণার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর সড়ক অবরোধে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে চীন মৈত্রী সিগন্যাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীরা।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের প্রভাবে আগারগাঁও, শিশুমেলা, আসাদগেট, ফার্মগেট, উড়োজাহাজ ক্রসিং এবং তেজগাঁও এলাকার বিস্তীর্ণ সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বিশেষ করে হাসপাতালগামী রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি ছিল বেশি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার অবরোধের পর দুপুর ২টার দিকে সড়ক থেকে সরে যান আন্দোলনকারীরা। এরপর যান চলাচল শুরু হলেও বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের চাপ থেকে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার রফিকুল ইসলাম।
তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে এখনো যানবাহনের চাপ রয়েছে। যানজট কমিয়ে সড়কে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। ট্রাফিক বিভাগের মাঠপর্যায়ের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
বিজ্ঞাপন
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত এই মাঠ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এদিন সড়ক অবরোধের পাশাপাশি শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে কুশপুত্তলিকা দাহ করারও ঘোষণা দেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। আগারগাঁও থেকে শিশুমেলা, আসাদগেট ও ফার্মগেটমুখী সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। আশপাশের সংযোগ সড়কগুলোতেও যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কাজে বের হওয়া সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়।
এর আগে মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এক মতবিনিময় সভা থেকে আন্দোলনকারীরা সব ধরনের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের সিদ্ধান্ত জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাঠটিতে সচিবালয় নির্মাণের লক্ষ্যে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিবাদেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
গত ২৭ অক্টোবর মাঠটি নিজেদের সম্পত্তি দাবি করে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সূচনা হয়। ওই দিন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে মাঠের দিকে যান। একপর্যায়ে সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে মাটি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জব্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তারা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরদিন ২৮ অক্টোবর মাঠে চলমান মেলা বন্ধের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন আন্দোলনকারীরা। এর পরদিন মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির মধ্যে ২৯ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। একই দিন জাতীয় যুব মেলাসহ মাঠে চলমান সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তবে মেলা বন্ধের ঘোষণা এলেও মাঠের স্থাপনা অপসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জমি হস্তান্তরের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এর পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের ঘটনাও অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিজ্ঞাপন
এর ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর মাঠটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা মাঠে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মেলা স্থগিত করা হলেও মাঠের স্থাপনা সরানো কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনেও দাবির বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করছেন।








