গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তেজনা, ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক মজুরি নির্ধারণ ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চলটিতে ১১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করেছে প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে কিছু এলাকায় স্বস্তি দেখা গেলেও পরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোর অংশ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের নাওজোর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী পোশাকশ্রমিকেরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে সকাল থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় বিএনপির নেতাকর্মীদেরও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান ও মহড়া দিতে দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে মৌচাক ও চন্দ্রাপল্লী বিদ্যুৎ মোড়সহ কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে আন্দোলনকারীরা নাওজোর এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাইন জানান, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল চলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল পর্যন্ত কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের কাজে যেতে দেখা গেছে। তবে পরবর্তী সময়ে নাওজোর এলাকায় অবরোধের ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে তিন মামলা, আসামি ৩ হাজার ৬০০
এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গাজীপুরে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) কোনাবাড়ী, বাসন ও কালিয়াকৈর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করে।
এসব মামলায় মোট ৩ হাজার ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোতে এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩০ জনকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করেছে পুলিশ।
দুই সপ্তাহ ধরে চলছে শ্রমিক অসন্তোষ
বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন। তাঁদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহাল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত না করা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে সোমবার সাভার, গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই দিন সারা দেশে ৬৭০টি কারখানা বন্ধ ছিল। ফলে প্রায় ১৭ লাখ শ্রমিক কাজ করতে না পেরে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন।
প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠকের পর কয়েকটি শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি
শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
এর পর মঙ্গলবার সকাল থেকে সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) কারখানাগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যায়। এসব এলাকার শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেন।
তবে সাভার ও আশুলিয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ন্যূনতম মজুরি ও বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকায় শিল্পাঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন।








