ই-সিগারেট নীতিতে বাস্তবতা বিবেচনার আহ্বান বেন্ডস্টার

ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS) বা ই-সিগারেট সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে এ খাতে প্রমাণভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেন্ডস্টা)।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর বনানীতে প্লাটিনাম গ্র্যান্ডের জিজি ব্যাংকোয়েট হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন।
এতে উপস্থিত ছিলেন বেন্ডস্টার সভাপতি সুমন জামান, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান আহমেদ, সহকারি সাধারণ সম্পাদক তাওফিক আহমেদ, নির্বাহী কিমিটির সদস্য নোমান বিন খালেক এবং মোহাম্মদ নজরুল আফসার।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে বেন্ডস্টা জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ENDS তামাকজাত পণ্যের আওতায় এনে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তা পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে এ প্রক্রিয়ায় কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে আংশিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করে।
সংগঠনটির দাবি, দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ENDS বা ভেপ ব্যবহার করছেন, যাদের অনেকেই ধূমপান ত্যাগ বা ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে এটি গ্রহণ করেছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ খাতে শতাধিক প্রতিষ্ঠান ও ৬০০-এর বেশি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যার সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ই-সিগারেট সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়, তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী এটি প্রচলিত দহনযোগ্য সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় ধূমপান ত্যাগে সহায়ক হিসেবে ই-সিগারেট ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বেন্ডস্টা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালিসহ অনেক দেশে ENDS সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়; বরং নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় এর ব্যবহার অনুমোদিত। তাদের মতে, পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে কালোবাজারের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং অনিয়ন্ত্রিত পণ্যের বিস্তার ঘটতে পারে।
সংগঠনটি ENDS খাতের জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু, কর কাঠামোর আওতায় আনা এবং কিশোরদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ।
বিজ্ঞাপন
বেন্ডস্টার নেতারা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতি হ্রাস— এই তিনটি বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে ENDS সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্যের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন যে, সঠিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ খাতকে জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে কাজে লাগানো সম্ভব।








