একইদিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য ঘোষিত তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিটটি দায়ের করেন।
রিটে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত সংবিধান ও প্রচলিত নির্বাচন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—তা নির্ধারণের আবেদন জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার থেকেই সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা তাদের আপিল আবেদন জমা দিতে পারছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত ঘোষণার পাঁচ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিল আবেদনের জন্য এক সেট মূল কাগজপত্র এবং ছয় সেট ছায়ালিপি (ফটোকপি) মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হবে।
আপিল গ্রহণ ও শুনানি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন সারাদেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করেছে। প্রতিটি অঞ্চলের জন্য নির্বাচন ভবনে আলাদা বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রংপুর অঞ্চলের আপিল গ্রহণ করা হবে বুথ-১–এ (আসন ১–৩৩), রাজশাহী অঞ্চলের জন্য বুথ-২ (আসন ৩৪–৭২), খুলনা অঞ্চলের জন্য বুথ-৩ (আসন ৭৩–১০৮), বরিশাল অঞ্চলের জন্য বুথ-৪ (আসন ১০৯–১২৯), ময়মনসিংহ অঞ্চলের জন্য বুথ-৫ (আসন ১৩০–১৬৭), ঢাকা অঞ্চলের জন্য বুথ-৬ (আসন ১৬৮–২০৮), ফরিদপুর অঞ্চলের জন্য বুথ-৭ (আসন ২০৯–২২৩), সিলেট অঞ্চলের জন্য বুথ-৮ (আসন ২২৪–২৪২), কুমিল্লা অঞ্চলের জন্য বুথ-৯ (আসন ২৪৩–২৭৭) এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের আপিল গ্রহণ করা হবে বুথ-১০–এ (আসন ২৭৮–৩০০)।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানি শুরু হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে আপিলের সংখ্যা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বা তাঁর প্রতিনিধি এবং আপিলকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে হবে। শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরে প্রদর্শন করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ই-মেইলে রায়ের পিডিএফ কপি পাঠানো হবে।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন ভবন থেকে আপিলের রায়ের হার্ডকপি সংগ্রহ করা যাবে। কমিশন জানায়, ১০ থেকে ১২ জানুয়ারির শুনানির রায় ১২ জানুয়ারি, ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারির রায় ১৫ জানুয়ারি এবং ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারির শুনানির রায় ১৮ জানুয়ারি বিতরণ করা হবে।
এদিকে, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দায়ের হওয়া রিটের শুনানি কবে হবে—তা আদালতের কার্যতালিকা অনুযায়ী পরে নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনাঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। রিটের ওপর আদালতের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের আপিল নিষ্পত্তির ফলাফলের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিস্তারিত আসছে…








