Logo

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া চলছে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৩
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া চলছে
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে ঠিক কোন স্ট্যাটাসে বা কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা বিচারিক প্রক্রিয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। তাকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে বা তার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে ভারতীয় আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে—এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা চিফ প্রসিকিউটরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জবাবে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কি না কিংবা তিনি ঠিক কোন স্ট্যাটাসে দেশটিতে অবস্থান করছেন, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে শুধু ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানে না শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন। তাই ভারতীয় আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে—এমন বক্তব্যের মাধ্যমে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সেটিও বাংলাদেশের কাছে পরিষ্কার নয়।

তবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

বিজ্ঞাপন

সাংবাদিকরা ভারতের মেঘালয়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, জানতে চান।

চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করে বলেন, দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি জানান, ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমেদকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের শিলংয়ে তাকে পাওয়া যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয় এবং ওই মামলায় তিনি খালাস পান। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান মো. আমিনুল ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, জুলাই আন্দোলনে অভিযুক্তদের ভূমিকার কারণে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট আসামিদের দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধের দায় প্রমাণিত হলে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন—এমন প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এখন ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ভারতে তার বর্তমান আইনি অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার বিষয়টিও পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD