১৫ আগস্ট ঘিরে কারাগারে আ.লীগ-ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী

রাজধানীতে ১৫ আগস্ট ঘিরে শোক পালন ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৫ আগস্ট) পৃথক মামলার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অর্নব দাস, মিরাজুল ইসলাম, আ. কাদের এবং সাজ্জাদ হোসেন সজল ওরফে কাজল।
ধানমন্ডি-৩২ থেকে গ্রেপ্তার অর্নব
শনিবার সকাল ১০টার দিকে ধানমন্ডি-৩২ নম্বর এলাকা থেকে অর্নব দাসকে আটক করা হয়। পরে তাকে ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, অর্নব দাস যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন মিয়া জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত অর্নবের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শুনানির সময় তাকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়নি।
খাবার বিতরণের সময় দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
পুলিশের মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট রাত ২টা ৪৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গেটের সামনে সড়কে খাবার বিতরণের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তারা হলেন ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম এবং বিজয় ৭১ হলের শিক্ষার্থী আ. কাদের।
শাহবাগ থানা পুলিশের দাবি, ওই সময় ঘটনাস্থলে থাকা আরও ১০ থেকে ১৫ জন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। পৃথক শুনানি শেষে তাদেরও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
রুপনগর থেকে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা
বিজ্ঞাপন
এর আগে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর রুপনগর আবাসিক এলাকা থেকে সাজ্জাদ হোসেন সজল ওরফে কাজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পুলিশের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর রুপনগর থানার আওতাধীন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিলে অংশ নেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছিল।
ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
মামলায় যেসব অভিযোগ
ধানমন্ডি থানার মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশ ও সহযোগিতায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র করেন। তারা মিছিলে সমবেত হয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং জনজীবন বিপন্ন করার চেষ্টা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক বাবন উদ্দিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। তবে মামলায় করা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলবে।








