Logo

ওবায়দুল কাদের রাজনৈতিক জোকার: চিফ প্রসিকিউটর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:৫৬
ওবায়দুল কাদের রাজনৈতিক জোকার: চিফ প্রসিকিউটর
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজনৈতিক জোকার’ হিসেবে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা ও সহিংসতার সঙ্গে মামলার সাত আসামির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দায় রয়েছে। চারটি অভিযোগই সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে তাদের কোনো ধরনের অনুকম্পা না দেখিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

‘রাজনৈতিক জোকার’ হিসেবে ওবায়দুল কাদেরকে আখ্যা

বিজ্ঞাপন

যুক্তিতর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওবায়দুল কাদের এমন রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উসকানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সহিংস কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করেছিলেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে বিরোধী মতের মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করত—এমন অভিযোগও তিনি যুক্তিতে তুলে ধরেছেন। ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন বক্তব্যকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বশীল বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ত। তার দাবি, এসব বক্তব্যের প্রভাব জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার ঘটনাপ্রবাহে পড়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতে বলা হয়, মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধেই আনা চারটি অভিযোগ গুরুতর এবং এসব অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে হত্যাকাণ্ড ও বহু মানুষকে আহত করার ঘটনায় তাদের দায় রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসামিদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত দায়ের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় বা ‘সুপিরিয়র কমান্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে। এ কারণে সাতজনের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ সাজা প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যাবে।

মামলার অন্য ছয় আসামি

ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

শেষ হয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ

গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ জন সরাসরি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া শহীদ শরিফ ওসমান হাদির সাক্ষ্যও মামলার সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

বিজ্ঞাপন

জানুয়ারিতে শুরু হয় বিচার

গত ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

বুধবারের যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্ব, তাদের কথিত ভূমিকা এবং কমান্ড দায়ের বিষয়গুলো তুলে ধরে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছে। এখন মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD