জামিন পেলেন না অভিনেতা ডন

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
ডনের পক্ষে আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ কয়েকজন আইনজীবী এদিন আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষ ডনের জামিনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ডনের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সালমান শাহ হত্যা মামলায় আইনজীবী আবিদ হাসান।
বিজ্ঞাপন
ডনের জামিনে যে যুক্তি দেওয়া হয়
আসামিপক্ষের করা জামিন আবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহার এবং ডনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানোর সময় দেওয়া ফরোয়ার্ডিংয়ে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আবেদনে আরও দাবি করা হয়, সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে ডনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি কথিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলেও আদালতের কাছে দাবি করেন তার আইনজীবীরা। এসব কারণ দেখিয়ে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি তুলে ধরে। শুনানি শেষে বিচারক আসামিপক্ষের আবেদন গ্রহণ করেননি।
ওমরাহ পালনে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল বলে জানা গেছে। সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে।
বিজ্ঞাপন
পরে ইমিগ্রেশন থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে সিআইডি তাকে হেফাজতে নেয়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারের তিন দিন পর বুধবার তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে তা নাকচ হয়ে যায়।
কীভাবে সালমান শাহর মৃত্যু হয়েছিল
বিজ্ঞাপন
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনে নিজের বাসায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর ঘটনাটি প্রথমে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচিত হলেও পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়।
পরবর্তীতে সালমান শাহর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হত্যা মামলা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটির তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক ব্যক্তির নামও তদন্তের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
বিজ্ঞাপন
এই মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে শেষ পর্যন্ত কীভাবে প্রমাণিত হবে, সেটি পরবর্তী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
বুধবারের আদেশের ফলে অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র আদালতে উপস্থাপনের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।








