Logo

বড় কোনো ডিগ্রি নেই, তবুও বিশ্বজুড়ে সফল যেসব তারকা

profile picture
বিনোদন ডেস্ক
১০ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:৪৯
বড় কোনো ডিগ্রি নেই, তবুও বিশ্বজুড়ে সফল যেসব তারকা
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষার খাতায় পাওয়া নম্বরই কি জীবনের সাফল্যের শেষ মাপকাঠি? উত্তরটা যে ‘না’, তা প্রমাণ করেছেন বিশ্বের অসংখ্য সফল মানুষ। বিনোদন জগতেও এমন অনেক তারকা আছেন, যাঁদের শিক্ষাজীবন খুব বেশি দূর এগোয়নি, কেউ স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি, কেউ আবার কলেজের পড়া শেষ করেননি। অথচ পরবর্তী সময়ে তারাই হয়ে উঠেছেন বিশ্বখ্যাত অভিনেতা, নির্মাতা কিংবা বিনোদন জগতের আইকন।

বিজ্ঞাপন

তবে এসব তারকার গল্পকে ‘পড়াশোনায় ব্যর্থ হয়ে সাফল্য’ হিসেবে দেখার চেয়ে বলা যায়, একাডেমিক শিক্ষার প্রচলিত পথ তাদের জন্য সাফল্যের একমাত্র মাধ্যম ছিল না। নিজেদের প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং পছন্দের ক্ষেত্রে কাজ করার সাহস তাদের এগিয়ে দিয়েছে। তারা যে পথে এগিয়েছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের পরিচিতি ও সাফল্যের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

জনি ডেপ: ১৫ বছরেই স্কুল ছাড়েন

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জনি ডেপের শিক্ষাজীবন খুব বেশি দূর এগোয়নি। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই স্কুল ছেড়ে দেন তিনি। সে সময় তার স্বপ্ন ছিল সংগীতশিল্পী হওয়ার। পরবর্তী সময়ে অভিনয় জগতে প্রবেশ করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন ডেপ। ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’, ‘এডওয়ার্ড সিজরহ্যান্ডস’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তারকা খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

স্কুলের পড়াশোনা শেষ না করেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তারকা হয়ে ওঠার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ জনি ডেপ। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ এবং নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়েই তিনি বিনোদন জগতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

জিম ক্যারি: স্কুল ছাড়লেও থামেনি স্বপ্ন

হলিউডের ‘কমেডি কিং’ হিসেবে পরিচিত জিম ক্যারিও তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেননি। কৈশোরেই পারিবারিক ও আর্থিক নানা সংকটের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত স্কুল ছেড়ে কাজ শুরু করতে হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

তবে কঠিন সেই সময়ও তার স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। প্রথমে মঞ্চে হাস্যরসাত্মক পরিবেশনা দিয়ে পরিচিতি পান তিনি। পরে অভিনয়ে এসে ‘দ্য মাস্ক’, ‘ডাম্ব এন্ড ডাম্বার’, ‘দ্য ট্রুম্যান শো’সহ একের পর এক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেন। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করতে না পারলেও জিম ক্যারি পরবর্তী সময়ে হলিউডের সবচেয়ে পরিচিত কমেডি অভিনেতাদের একজন হয়ে ওঠেন।

রাসেল ক্রো: পড়াশোনার বদলে অভিনয়ের পথে

অস্কারজয়ী অভিনেতা রাসেল ক্রোও কৈশোরেই স্কুলের পড়াশোনা ছেড়ে অভিনয়ের দিকে মনোযোগ দেন। অস্ট্রেলিয়ায় শিশুশিল্পী হিসেবে টেলিভিশনে কাজের মাধ্যমে তার অভিনয়জীবনের শুরু। পরবর্তীতে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ধীরে ধীরে নিজের অভিনয় প্রতিভা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠেন ক্রো। ‘গ্লাডিয়েটর’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অস্কার জেতেন তিনি। বর্তমানে রাসেল ক্রো হলিউডের অন্যতম সম্মানিত অভিনেতা হিসেবে পরিচিত।

মাইকেল কেইন: ১৫ বছরেই স্কুল শেষ

দুইবারের অস্কারজয়ী ব্রিটিশ অভিনেতা মাইকেল কেইনও মাত্র ১৫ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে কাজে যোগ দেন। এরপর সামরিক জীবন পার করে অভিনয়ের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। শিক্ষাজীবন অল্প বয়সেই শেষ হয়ে গেলেও অভিনয় ক্যারিয়ারে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন কেইন।

বিজ্ঞাপন

কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। নিজের অভিনয় দক্ষতা ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মাধ্যমে মাইকেল কেইন কিংবদন্তি অভিনেতাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

নিকোল কিডম্যান: অভিনয়ের জন্য পড়াশোনায় বিরতি

অস্কারজয়ী অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যানও প্রচলিত শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই অভিনয়ের দিকে পুরোপুরি মনোযোগ দেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্কুল ছাড়ার পর অল্প বয়সেই মঞ্চ ও অভিনয়ের জগতে পেশাগতভাবে যুক্ত হন তিনি।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে ‘দ্য হর্স’, ‘মুলাঁ রুজ!’সহ বিভিন্ন প্রশংসিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন কিডম্যান। অভিনয় প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

সিলভেস্টার স্ট্যালোন: অসম্পূর্ণ পড়াশোনা, পূর্ণ সফলতা

‘রকি’ ও ‘র‌্যাম্বো’খ্যাত সিলভেস্টার স্ট্যালোনের শিক্ষাজীবনও ছিল অন্যদের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। তিনি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন এবং পরে মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তবে সেখান থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন না করেই অভিনয়ের জগতে পা রাখেন।

বিজ্ঞাপন

তবে স্ট্যালোনের গল্পের বিশেষ দিক হলো, বহু বছর পর তার অসম্পূর্ণ শিক্ষাজীবনও এক ধরনের পূর্ণতা পায়। ১৯৯৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় তার অভিনয় ও জীবনের অভিজ্ঞতাকে একাডেমিক ক্রেডিট হিসেবে গ্রহণ করে তাকে স্নাতক ডিগ্রি দেয়। অর্থাৎ যে পড়াশোনা একসময় অসম্পূর্ণ অবস্থায় থেমে গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটিও অন্যভাবে পূর্ণতা লাভ করে।

আমির খান: পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলা ও সিনেমায় ঝোঁক

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানকে আজকের অবস্থান থেকে দেখলে তার শিক্ষাজীবন নিয়ে হয়তো অনেকেরই ধারণা ভিন্ন হতে পারে। তবে ছাত্রজীবনে পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলা ও অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিল বেশি। তিনি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে কলেজে ভর্তি হলেও দুই বছর পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর চলচ্চিত্র নির্মাণ ও অভিনয়কেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন আমির খান। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শেষ না করেও তিনি পরবর্তী সময়ে ‘লাগান’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘দঙ্গল’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় ও কাজের মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেন।

সালমান খান: পড়াশোনা শেষ হয়নি, তারকা খ্যাতি আকাশছোঁয়া

বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খানও কলেজের পড়াশোনা শেষ করেননি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পর তিনি মুম্বাইয়ের ন্যাশনাল কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কলেজজীবন আর সম্পূর্ণ হয়নি।

বিজ্ঞাপন

পড়াশোনা শেষ না করলেও অভিনয়জগতে সালমান খানের সাফল্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি ভারতের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন তিনি।

অক্ষয় কুমার: কলেজ ছেড়ে মার্শাল আর্ট, পরে বলিউড

অক্ষয় কুমারের শিক্ষাজীবনের গল্পটিও অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা। মুম্বাইয়ের ডন বস্কো স্কুলে পড়াশোনার পর কলেজে ভর্তি হলেও তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন দীর্ঘ হয়নি। পরে মার্শাল আর্ট শেখার জন্য ব্যাংককে চলে যান তিনি।

বিজ্ঞাপন

মার্শাল আর্টে অর্জিত দক্ষতাই পরবর্তী সময়ে তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রথম দিকে অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে পরিচিতি পেলেও ধীরে ধীরে কমেডি, সামাজিক ও ঐতিহাসিক নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দেন অক্ষয় কুমার।

রণবীর কাপুর: স্কুল পাস, কলেজে আর যাওয়া হয়নি

কাপুর পরিবারের অন্য অনেক সদস্যের মতো রণবীর কাপুরও ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের পরিবেশে বড় হয়েছেন। তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে তা শেষ করেন। এরপর আর কলেজে ভর্তি হননি।

শিক্ষাজীবন থেমে গেলেও অভিনয়ের পথ থামেনি রণবীরের। ‘রকস্টার’, ‘বরফি’, ‘সাঞ্জু’, ‘অ্যানিমেল’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি বলিউডের শীর্ষস্থানীয় অভিনেতাদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ঢাকাই শোবিজ: সাফল্যের পথ সবার এক নয়

বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনেও এমন অনেক তারকা রয়েছেন, যাদের ক্যারিয়ার প্রচলিত শিক্ষাজীবনের ধারায় এগোয়নি। উদাহরণ হিসেবে রাজ্জাক, শাবানা, ববিতা, কবরী, রোজিনা, ফারুক, সালমান শাহ, শাবনূর, মৌসুমী ও শাকিব খানের মতো তারকাদের নাম উল্লেখ করা যায়। অভিনয়জীবনে তাদের সাফল্য ও জনপ্রিয়তা দেশের বিনোদন অঙ্গনে তাদের বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছে।

সংগীতাঙ্গনেও এমন অনেক শিল্পী রয়েছেন, যারা একাডেমিক শিক্ষায় হয়তো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি। তবে সংগীতের জগতে নিজেদের প্রতিভা, সাধনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্যের শিখরে উঠেছেন। তাদের মধ্যে রুনা লায়লা, কনক চাঁপা, জেমসসহ আরও অনেক জনপ্রিয় শিল্পীর নাম উল্লেখ করা যায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় চূড়ান্ত সাফল্য না পেলেও নিজেদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে তারা ব্যক্তি জীবনের পাশাপাশি দেশের নামও উজ্জ্বল করেছেন।

পরীক্ষার খাতায় একটি সংখ্যা, একটি গ্রেড বা একটি সার্টিফিকেট মানুষের সামর্থ্যের পুরোটা বলে দিতে পারে না। জনি ডেপ, জিম ক্যারি, রাসেল ক্রো, মাইকেল কেইন থেকে আমির খান, সালমান খান, অক্ষয় কুমার কিংবা রুনা লায়লা, শাকিব খানেরা তারই প্রমাণ। মানুষের জীবনে জরুরি সুশিক্ষা। সেটা অর্জন হলেই সাফল্যের স্বাদ মেলে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD