Logo

আরও ১২ জেলায় চালু হলো ই-বেইলবন্ড, কমবে হয়রানি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:১০
আরও ১২ জেলায় চালু হলো ই-বেইলবন্ড, কমবে হয়রানি
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমাতে দেশের আরও ১২ জেলায় ইলেকট্রনিক জামিননামা বা ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর ফলে দূরবর্তী এলাকার আসামি ও তাদের স্বজনদের জামিন-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আগের মতো আদালত ও কারাগারে বারবার ছুটতে হবে না।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে চতুর্থ ধাপে নতুন জেলাগুলোকে ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

চতুর্থ ধাপে নতুন করে ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থার আওতায় এসেছে— টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, চাঁদপুর, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ এবং ঠাকুরগাঁও।

এর আগে কয়েক ধাপে দেশের আরও ১৬টি জেলায় এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। নতুন ১২ জেলা যুক্ত হওয়ার ফলে ই-বেইলবন্ড সুবিধা আরও বিস্তৃত হলো।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, আগে একটি জামিননামা আদালত থেকে কারাগারে পৌঁছানো এবং আসামিকে মুক্ত করার পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ১২টি জটিল ধাপ অতিক্রম করতে হতো। এতে বিচারপ্রার্থী ও তাদের স্বজনদের সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো।

ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে আইনজীবীরা তাদের চেম্বার কিংবা অন্য যেকোনো স্থান থেকে স্মার্টফোন ব্যবহার করে এক ক্লিকেই ইলেকট্রনিক জামিননামা জমা দিতে পারবেন। জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোবাইলে ওটিপি ও নিশ্চিতকরণ বার্তা পৌঁছে যাবে।

ফলে জামিননামা দাখিল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সময় অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জে পরীক্ষামূলকভাবে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় ধাপে দেশের আটটি জেলা এবং তৃতীয় ধাপে বগুড়াসহ আরও সাতটি জেলায় এ ব্যবস্থা চালু করা হয়।

ইতোমধ্যে ওই জেলাগুলোতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ড নিষ্পত্তি হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

নতুন করে আরও ১২ জেলা যুক্ত হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রমে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে। একই সঙ্গে জামিন-সংক্রান্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার ফলে বিচারিক কার্যক্রমের গতিও বাড়বে বলে আশা করছে আইন মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে মামলা জট কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বিচারকদের বিচারিক সক্রিয়তা এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর ব্যবস্থার মাধ্যমে মামলার সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা বিচারিক সক্রিয়তা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হবে, তাদের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালুর ফলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী এলাকার বিচারপ্রার্থীরা বেশি সুবিধা পাবেন বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

আগে জামিনের কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালত, আইনজীবীর কার্যালয় ও কারাগারে সরাসরি যোগাযোগ করতে হতো। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এসব ক্ষেত্রে শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।

এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের যাতায়াত ব্যয় কমার পাশাপাশি সময় সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে জামিন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ্, কক্সবাজারের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও কারাগারের জেল সুপার মো. মাসুদুর রহমান।

ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম আরও জেলায় সম্প্রসারণের ফলে দেশের বিচারব্যবস্থায় ডিজিটাল সেবা বিস্তারের পাশাপাশি জামিন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি কমানোর পথ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD