Logo

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:৩৮
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৬ আগস্ট) ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুধু ভারত সরকারের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বিবেচনায় হবে না। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ভারতের বিচার বিভাগ ও আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে ভারতের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেসব অপরাধের অভিযোগ তুলে তাকে ফেরত চাওয়া হয়েছে, সেগুলো ভারতীয় আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কি না, সেটিও আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হতে পারে।

প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা-দিল্লির আলোচনা

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর প্রত্যর্পণ ইস্যুটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের অনুরোধকে দুই দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বাইরে আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে তার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান এবং শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের আবেদনে প্রয়োজনীয় নথি

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র সংযুক্ত করেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রও জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বাংলাদেশের অনুরোধ নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলেও জানিয়েছিল দিল্লি।

কী আছে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তিতে

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তিতে অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি কিংবা আদালতের সাজা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিধান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চুক্তির আওতায় প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার আগে অভিযোগের আইনি ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো যাচাই করার প্রক্রিয়া রয়েছে।

তবে চুক্তিতে রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধকে প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে রাখার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং হত্যায় প্ররোচনাসহ কয়েকটি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

ভারতের প্রত্যর্পণ আইনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে ১৯৬২ সালের ভারতের প্রত্যর্পণ আইনের বিধানও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এই আইনে বিদেশে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট দেশের অনুরোধের ভিত্তিতে ফেরত দেওয়ার আইনি কাঠামো রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আইন অনুযায়ী, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার, পাসপোর্ট অ্যান্ড ভিসা (সিপিভি) বিভাগ প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিষয়ে নোডাল কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও আইনি ব্যবস্থা বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় প্রয়োজন মনে করলে বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন ইনকোয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে।

তদন্ত শেষে ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন, প্রত্যর্পণের আবেদনের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট মামলা রয়েছে, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হস্তান্তরের সুপারিশ করে প্রতিবেদন দিতে পারেন। বিপরীতে অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিক ভিত্তি না থাকলে অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এখন আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার দিকেই নজর

ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি শুধু দুই দেশের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রত্যর্পণ চুক্তি, ভারতের অভ্যন্তরীণ আইন এবং বিচারিক প্রক্রিয়াও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হলেও, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দেশটির আদালতের আইনি মূল্যায়ন বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। এখন ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক আলোচনা এবং ভারতের আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD