Logo

পাকিস্তান-চীনকে মোকাবিলায় ভয়ংকর ৬ সাবমেরিন কিনছে ভারত

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:৩৬
পাকিস্তান-চীনকে মোকাবিলায় ভয়ংকর ৬ সাবমেরিন কিনছে ভারত
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান ও চীনের নৌ সক্ষমতা মোকাবিলায় জার্মানির কাছ থেকে ভয়ংকর ছয়টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘অ্যাডভান্সড কনভেনশনাল’ শ্রেণির এসব সাবমেরিন সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি রুপি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৬ আগস্ট) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাবমেরিন কেনার প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কমিটির বৈঠকে ‘প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত প্রস্তাবটি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে জার্মানির সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (টিকেএমএস) এবং ভারতের মুম্বাইভিত্তিক মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড যৌথভাবে সাবমেরিনগুলো নির্মাণ করবে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগুলো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এআইপি প্রযুক্তিতে বাড়বে পানির নিচে থাকার সক্ষমতা

সামরিক ক্ষেত্রে সাবমেরিন সাধারণত পারমাণবিক ও প্রচলিত—এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত। পারমাণবিক সাবমেরিন পারমাণবিক চুল্লির শক্তিতে পরিচালিত হয় এবং দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে প্রচলিত সাবমেরিন সাধারণত ডিজেল ইঞ্জিন ও ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এসব সাবমেরিন তুলনামূলকভাবে ছোট ও কম শব্দযুক্ত হলেও পানির নিচে থাকার সক্ষমতা সীমিত।

ভারত যে ছয়টি সাবমেরিন সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে, সেগুলো টাইপ-২১৪ শ্রেণির বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ‘এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন’ বা এআইপি প্রযুক্তি থাকায় সাধারণ প্রচলিত সাবমেরিনের তুলনায় দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করা সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, টিকেএমএস ও মাজাগাঁও ডকের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত প্রতিটি সাবমেরিনের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৬৫ মিটার। এগুলো বিশেষ ধরনের এইচওয়াই-১০০ ফেরোম্যাগনেটিক ইস্পাত দিয়ে তৈরির কথা রয়েছে। এর ফলে সাবমেরিনগুলোর চৌম্বকীয় স্বাক্ষর তুলনামূলকভাবে কম থাকবে এবং শত্রুপক্ষের নজরদারি এড়ানোর সক্ষমতা বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

থাকবে টর্পেডো ও ক্ষেপণাস্ত্র

পরিকল্পিত সাবমেরিনগুলোর অস্ত্রভাণ্ডারে ছয়টি ৫৩৩ মিলিমিটার টর্পেডো টিউব থাকার কথা রয়েছে। এর সঙ্গে হেভিওয়েট ব্ল্যাক শার্ক টর্পেডো, এসএম-২৯ এক্সোসেট জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের সংস্করণ যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একই সময়ে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে নৌ সক্ষমতা বাড়িয়ে পাকিস্তান ও চীনের মোকাবিলায় ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

বিজ্ঞাপন

২০১৮ সাল থেকেই ছিল পরিকল্পনা

ভারতীয় নৌবাহিনী ২০১৮ সালে উন্নত প্রযুক্তির সাবমেরিন সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানায়। পরে ছয়টি সাবমেরিন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং প্রকল্পটি ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখন প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৩ হাজার কোটি রুপি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এর আগে আশির দশকের শুরুতে জার্মান প্রতিষ্ঠান হাউন্ডসওয়ার্ক-ডয়শে ওয়েরফ্টের কাছ থেকে চারটি সাবমেরিন সংগ্রহ করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী।

এ ছাড়া প্রায় দেড় দশক আগে ফরাসি প্রতিষ্ঠান ডিসিএনএসের নকশা ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় ছয়টি কলভরি শ্রেণির স্করপেন সাবমেরিন নির্মাণ শুরু করে ভারত। ওই প্রকল্পের নাম ছিল ‘প্রজেক্ট-৭৫’। সিরিজটির প্রথম সাবমেরিন আইএনএস কলভরি ২০১৫ সালের অক্টোবরে নৌবাহিনীর হাতে আসে। ২০২০ সালের নভেম্বরে সিরিজটির শেষ সাবমেরিন কমিশন করা হয়।

এরপর গত পাঁচ বছরে নতুন কোনো সাবমেরিন ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: এনডিটিভি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD