মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চাওয়া আবুল কালামের আপিল শুনানি ৩১ আগস্ট

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিল গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৭ আগস্ট) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন। আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট আপিল বিভাগে আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানির জন্য ১৭ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে সোমবার শুনানি শেষে আপিলটি গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য নতুন করে ৩১ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
বিলম্ব মার্জনার আবেদন
বিজ্ঞাপন
আবুল কালাম আযাদ সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় করা আপিলে দীর্ঘ বিলম্ব মার্জনার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত রাখার আবেদনও করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় বিলম্বের বিষয়টি আপিল বিভাগের সামনে এসেছে। এখন আদালত তার আপিল গ্রহণের আবেদন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো শুনানি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।
২০১৩ সালে মৃত্যুদণ্ড
আবুল কালাম আযাদ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য (রোকন)। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।
বিজ্ঞাপন
পলাতক অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর ধারাবাহিকতায় গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলায় এটিই ছিল প্রথম রায়।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ তদন্ত করে। অভিযোগ গঠনের আগে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কারণে পরিচিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন পর ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ
বিজ্ঞাপন
রায় ঘোষণার দীর্ঘ সময় পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে রাষ্ট্রপতি তার সাজা স্থগিত করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের পর তার আপিলের প্রস্তুতির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আত্মসমর্পণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন। পরে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আবুল কালাম আযাদ। এখন সেই আপিল গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে ৩১ আগস্ট আপিল বিভাগে শুনানি হবে।








