Logo

৪ দিনের রিমান্ডে যুবদল নেতা মঈনের চার সহযোগী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:০৫
৪ দিনের রিমান্ডে যুবদল নেতা মঈনের চার সহযোগী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শ্যামলীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনের চার সহযোগীকে চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরে বাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক মো. ছাব্বির আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

রিমান্ডে পাঠানো চার আসামি হলেন— মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. সুমন (৩৬) এবং মো. লিটন মিয়া (৩৮)। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আদালতে শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী কাজী আকরাফুল হুদা সুমন রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা মূল ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন এবং প্রকৃত আসামিকে গ্রেফতার না করে তাদের রিমান্ডে নেওয়া অযৌক্তিক। তিনি আরও বলেন, আসামিরা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি নেই।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের স্বার্থে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মামলার মূল আসামি মঈন উদ্দিনকে দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তদন্তে আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিয়ে অসংলগ্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। ফলে ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী, পলাতক আসামি এবং অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত করতে তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১১ এপ্রিল শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এতে যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদী ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা বাদীর বাসার সামনে গিয়ে জোরপূর্বক টাকা দাবি করে এবং অস্বীকৃতি জানালে অশোভন আচরণ করে।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে অভিযুক্তরা আরও লোকজন জড়ো করে হাসপাতালের সামনে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা স্লোগান, হুমকি এবং অশালীন আচরণের মাধ্যমে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালায়। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD