দুই দশকের জোট ভেঙে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত, নেই আওয়ামী লীগ

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াত এবার ভিন্ন পথে হেঁটেছে। ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এই দুই রাজনৈতিক ধারার সমর্থিত আইনজীবীরা পৃথক প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, যা নির্বাচনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদে ভোটগ্রহণ হবে। সমিতির ২১ হাজার ৭৩১ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল’ বা নীল প্যানেল এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ‘আইনজীবী ঐক্য পরিষদ’ বা সবুজ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দুটি প্যানেলেই ২৩ জন করে প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন পদে ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও লড়ছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সবুজ প্যানেল। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে বিএনপিপন্থি সদস্যদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সবুজ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন দাবি করেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী উভয় পক্ষের সমান প্রতিনিধিত্ব থাকার কথা থাকলেও এবার কমিশন গঠনে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কমিশনের এই গঠন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনকি কারচুপির শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে বিএনপিপন্থী নীল প্যানেল নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী। প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট কামাল খান বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। তিনি আরও বলেন, এটি কোনো দলীয় নির্বাচন নয়, বরং আইনজীবীদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের নির্বাচন, যেখানে পেশাগত স্বার্থই প্রাধান্য পাবে।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির বর্তমান নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই প্যানেলের মধ্যে এখন পর্যন্ত সহাবস্থান বজায় রয়েছে এবং নির্বাচন ঘিরে পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত।
বিজ্ঞাপন
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ’ অংশ নিচ্ছে না। তবে দলটির সমর্থিত কিছু আইনজীবী স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হতে চাইলেও মনোনয়ন ফরম না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, নতুন কিছু বিধান যুক্ত করে তাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, নিয়ম মেনে আবেদনকারী সব স্বতন্ত্র প্রার্থীই মনোনয়নপত্র পেয়েছেন। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি-জামায়াতের বাইরে মোট ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দীন বলেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন কাজ করছে। নির্বাচনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগকে তিনি ‘প্রচলিত ও ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, গঠনতন্ত্র মেনেই কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত সব ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
এবারের নির্বাচনে নীল ও সবুজ—দুটি প্রধান প্যানেলই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে প্রতিযোগিতা জমজমাট হওয়ার আভাস মিলছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল সকাল থেকে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। সদস্য পদে নির্ধারিত সংখ্যার কম বা বেশি ভোট দিলে সেই ভোট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।







