হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ কী, জানতে চান হাইকোর্ট

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৯ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশনা দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ ও ব্যারিস্টার মো. হুমায়ুন কবির পল্লব। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ।
বিজ্ঞাপন
এর আগে হামে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৩৫২ শিশুর পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানি শেষ হয়। পরবর্তী আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আদালত আজ আদেশ দেন। একই সঙ্গে রুল জারি করা হয়েছে।
রুলে দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা কেন নেই, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআরের পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেন।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৮৬৮ জন। একই সময়ে ৩৮ হাজার ৯৮০ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
এই সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে ৩৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৭৫ জন।








