আশুলিয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে স্বামী মো. রেজাউল করিম মাদবরকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২১ মে ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ ৭ম আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত দণ্ডিতকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত সীমা আক্তার (২৫) ও দণ্ডিত রেজাউল করিম মাদবর স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। তাদের আট বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সীমা আক্তার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন। তবে অভিযুক্ত রেজাউল কোনো কাজ করতেন না। সংসারে কাজের কথা বললেই স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল ভোররাতে আশুলিয়ার জিরাবো দেওয়ান ইদ্রিস কলেজ রোডে ভাড়া বাসায় পারিবারিক কলহের জেরে রেজাউল করিম তার স্ত্রী সীমা আক্তারের মাথায় আঘাত ও গলায় জবাই করে হত্যা করেন। ঘটনার সময় বাড়ির মালিক স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে।
বিজ্ঞাপন
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনায় আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
রায়ে আরও বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। একইসঙ্গে আসামি চাইলে সাত দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।








