Logo

সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আজই চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ মে, ২০২৬, ১২:৩৩
সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আজই চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে পাশবিক নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করছে পুলিশ। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে আজই (রবিবার) এই চার্জশিট জমা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবারই তারা বহুল প্রতীক্ষিত ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন। দাপ্তরিক কিছু শেষ মুহূর্তের কাজ বাকি রয়েছে, যা দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। আজ রবিবারের মধ্যেই এই দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করা হবে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজের ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে ফুসলিয়ে নিজেদের ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক পর সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

কোথাও না পেয়ে একপর্যায়ে অভিযুক্ত সোহেল ও স্বপ্নার ঘরের সামনে রামিসার জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ হওয়ায় দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। পরে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকহীন দেহ এবং ঘরের একটি বড় বালতির ভেতর তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখে স্তব্ধ হয়ে যান স্বজনরা।

খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর '৯৯৯'-এর সহায়তায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে আটকে সমর্থ হয়। তবে ততক্ষণে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ট্র্যাক ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে ঘাতক সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনায় পরদিনই (বুধবার) পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

গ্রেপ্তারের পর গত ২০ মে (বুধবার) আদালতে হাজির করা হলে রামিসাকে হত্যার নির্মম বিবরণ দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ঘাতক সোহেল রানা। জবানবন্দিতে সে জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগেই সে ইয়াবা সেবন করেছিল।

বিজ্ঞাপন

সোহেলের জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৯ মে সকালে রামিসা ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না তাকে টেনে নিজেদের ঘরে নিয়ে আসে। এরপর সোহেল শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে, যার ফলে রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই মুহূর্তেই রামিসার মা নিখোঁজ মেয়ের খোঁজে তাদের দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সোহেল তাৎক্ষণিকভাবে রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে। লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে শরীর থেকে পুরোপুরি আলাদা করে ফেলে এবং দুই হাতও কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে। এরপর বাথরুম থেকে রক্তাক্ত মরদেহ এনে শয়নকক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে।

ভয়াবহ এই অপরাধের পুরোটা সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না একই ঘরে উপস্থিত থেকে তাকে সহযোগিতা করেছিল। পরবর্তীতে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল রানা স্বীকার করেছে যে, রামিসার পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব শত্রুতা বা কোনো বিরোধ ছিল না। অবুঝ শিশুটিকে কেবল নিজের পাশবিক লালসা ও মাদকের উন্মাদনায় বলি বানিয়েছে এই ঘাতক চক্র।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD