Logo

নাসির-তামিমার ভাগ্য নির্ধারণ কাল, দোষ প্রমাণিত হলে ৭ বছরের কারাদণ্ড

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ জুন, ২০২৬, ১৬:২৯
নাসির-তামিমার ভাগ্য নির্ধারণ কাল, দোষ প্রমাণিত হলে ৭ বছরের কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

তালাক না দিয়ে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আগামীকাল বুধবার। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানার।

বিজ্ঞাপন

বুধবার(১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করবেন।

এবিষয়ে নাসিম-তামিমার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করে বাদীপক্ষরে আইনজীবী ইসরাত হাসান বলেন, মামলায় আনা অভিযোগ অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হলে নাসির হোসেন দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৪৯৮ দুটি ধারায় সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা পেতে পারেন। অন্যদিকে, তামিমা সুলতানা দোষী সাব্যস্ত হলে দণ্ডবিধির ৪৯৪/৪৬৮/৪৭১ তিনটি ধারায় ৭ বছর করে সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আদালত চাইলে এই সাজা একসঙ্গে দিতে পারেন আবার একের পর এক দিতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, নাসির বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন স্বনামধন্য খেলোয়াড়। নাসির ও তামিমা বৈধভাবে বিয়ে করেছেন। তাদের কাছে যেসব কাগজপত্র আছে, সবই বৈধ। নাসির ও তামিমার সম্মানহানির উদ্দেশ্যে এই মামলা করা হয়েছে। আমরা আশা করছি তারা এই মামলা থেকে খালাস পাবেন।

এর আগে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে আদালত ১০ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তামিমা পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

বিজ্ঞাপন

২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। ৬ মার্চ নাসির ও তামিমা অভিযোগ গঠন আদেশের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা আদালতে রিভিশন করেন। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষ। ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের রিভিশন অবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ মামলাটির বিচার চলবে বলে আদেশ দেন। একই সঙ্গে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তার মামলার দায় থেকে অব্যাহতি থাকবেন বলে আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

২০২৩ সালের ২০ মার্চ বাদী রাকিব হাসানের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। ২০২৫ সালের গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। চলতি বছরের ১০ মার্চ আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নাসির ও তামিমা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। ৮ এপ্রিল তামিমার সাফাই সাক্ষী শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৬ মে দিন ধার্য করেন। ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে আদালত ১০ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD