Logo

রামিসা হত্যা মামলায় আসামীদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জুন, ২০২৬, ১৮:২১
রামিসা হত্যা মামলায় আসামীদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির পক্ষে শুনানি পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইংকে ফৌজদারি বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন আইনজীবীকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বর্তমানে ওই বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দণ্ডিত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি এবং তাদের দায়ের করা জেল আপিলের শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে প্রক্রিয়াগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে যেকোনো সময় মামলাটির শুনানি শুরু হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, সরকারি মুদ্রণালয় থেকে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে তা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ৯ জুন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে স্বাক্ষরের পর মামলার নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলে তা কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াই ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। একইসঙ্গে আসামিরা চাইলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল করতে পারেন, যা উচ্চ আদালতে একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন

গত ৭ জুন বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। আদালতে উপস্থিত দুই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

রায়ের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, হত্যাকাণ্ডের আগে শিশুটিকে ধর্ষণের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা তদন্ত ও বিচার চলাকালে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও পরে তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করেননি। আদালতের মতে, এতে তার স্বেচ্ছায় অপরাধ স্বীকারের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়।

একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঘটনার পর আসামি সোহেলকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন স্বপ্না আক্তার। অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করা এবং অপরাধ প্রতিরোধে কোনো কার্যকর ভূমিকা না রাখার বিষয়টিও আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD