আওয়ামী লীগের বিচার তাদের প্রণীত আইনেই হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দলগতভাবে অভিযোগের বিচার করতে নতুন কোনো আইন প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, দলটি ক্ষমতায় থাকাকালে যে আইনগুলো প্রণয়ন ও সংশোধন করেছিল, সেসব আইনের আওতাতেই প্রয়োজনীয় বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৫ জুলাই) নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়বদ্ধতার প্রশ্নও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিচার বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই সম্ভব।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
বিজ্ঞাপন
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালে একই আইনের অধীনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। এছাড়া ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করে ‘অর্গানাইজেশন’ বা সংগঠন সম্পর্কিত বিধান যুক্ত করা হয়।
মো. আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ২০০৯ সালে প্রণীত সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও ব্যক্তি ছাড়াও কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো সংগঠন অপরাধে জড়িত থাকলে ওই আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালনার বিধান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৪ জুলাই এক স্মরণসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের কথা বলেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমেই জেনেছেন। তবে তাঁর মতে, বিদ্যমান আইনেই এমন বিচার পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ টেনে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারা ব্যবহার করে দলটিকে নিষিদ্ধ করেছিল তৎকালীন সরকার। তিনি দাবি করেন, সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি কাঠামোও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই তৈরি ও সংশোধন করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের পর দেশে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, ওই সময় রাজনৈতিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চিফ প্রসিকিউটর জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন ঘটনায় আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা যাচাই করছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়েও পৃথক তদন্তের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক অভিযোগের প্রতিবেদন হাতে এলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








