Logo

জিয়াউর রহমান সাজা দিয়েছিল, তারেক রহমানও সাজা দিয়েছে: ইনু

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুন, ২০২৬, ১৫:৫৬
জিয়াউর রহমান সাজা দিয়েছিল, তারেক রহমানও সাজা দিয়েছে: ইনু
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর এজলাস থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান সাজা দিয়েছিল। তার ছেলে তারেক রহমানও সাজা দিয়েছে। এটা প্রহসনের আদালতের ফরমায়েশি রায়।”

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ২২ জুন মামলাটি রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১৪ মে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও ফারুক আহাম্মদ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ।

প্রসিকিউশনের দাবি, ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন হাসানুল হক ইনু। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে সংঘটিত অপরাধের জন্য ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়ও তার ওপর বর্তায় বলে যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

শুনানিকালে প্রসিকিউশন আদালতে শেখ হাসিনা ও ইনুর মধ্যে টেলিফোনে হওয়া একটি কথোপকথনের রেকর্ড উপস্থাপন করে। ওই রেকর্ডে ইনুকে গণআন্দোলনকে ‘জঙ্গিবাদ’ আখ্যা দিয়ে তা দমনের পক্ষে অবস্থান নিতে শোনা যায় বলে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ।

তবে আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, ওই কথোপকথনের কোথাও আন্দোলন দমনে গুলি চালানো, বোমাবর্ষণ করা, নির্যাতনের নির্দেশ বা এ ধরনের কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য নেই। তাদের দাবি, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত নথিতেও ইনুর বিরুদ্ধে সরাসরি এমন কোনো নির্দেশ, উসকানি বা ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে তারা ইনুর খালাস প্রার্থনা করেন।

বিজ্ঞাপন

মামলাটিতে গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করলে শুনানি শেষে আদালত তা আমলে নেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনু গ্রেফতার হন। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা হাসানুল হক ইনু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD