Logo

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৩৪
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই রায়ে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

এর আগে ২০ আগস্ট মামলাটির ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানি শুরু করেছিল।

বিজ্ঞাপন

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি গত ১০ জুন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গঠন করেন। ১৪ জুন থেকে বেঞ্চটির কার্যক্রম শুরু হয়।

যেভাবে নুসরাতকে হত্যা করা হয়

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

মামলা প্রত্যাহারের চাপের মধ্যে ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

নিম্ন আদালতের রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় রায় দেন। ওই রায়ে বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর নথিপত্র হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায় এবং ১৪০/১৯ নম্বর ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলাটি নথিভুক্ত হয়।

অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও নিজেদের সাজা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানি শেষে সোমবার মামলাটির রায় ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD