জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা : ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

জামালপুরের মাদারগঞ্জে আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দিদারুল ইসলাম দিদার।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার সাখাওয়াত (৩২), মো. সোহেল (৩০), আল আমিন (৩০), সাদ্দাম (৩০), উজ্জল (৩০), অন্তর (৩০) ও ফয়জুর (৩২)।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন—চাঁন মিয়া (৫০), মো. জিয়ার (৪৫), শাহ আলম (৪১), কাওসার (২৯), রিফাত (৩১), সুমন (৩১) ও মোস্তফা (৪৯)। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ।
পুলিশ মোস্তফার বাড়ি শনাক্ত করতে না পেরে রাস্তার পাশে থাকা প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে বাড়িটির অবস্থান জানতে চায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে।
পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা—এমন অভিযোগ মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর ও স্বপনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মোস্তফার সমর্থক সাখাওয়াত ও সোহেল।
বিজ্ঞাপন
পরে সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মোস্তফার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে কুপিয়ে এবং পরে জবাই করে হত্যা করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার তিন দিন পর পাটখেত থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মহর আলী (১৯) গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে এবং মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার ভাতিজা স্বপন মিয়া (১৬) একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় ২২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মামলার বিচারকাজে আগে ৪২ জন এবং বৃহস্পতিবার আরও ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পরে আদালত সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদালতের দেওয়া রায়ে তিনি খুশি। একই সঙ্গে সরকারের কাছে মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট দিদারুল ইসলাম দিদার। আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমানুল্লাহ আকাশ, অ্যাডভোকেট ওয়াব আলী ও অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।








