রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে করা রিট খারিজ

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। সোমবার (১৭ আগস্ট) রিটের ওপর আদেশ দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রিটে মূলত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত হচ্ছে—এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়। রিটকারী আইনজীবীর দাবি, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিধান সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করে।
বিজ্ঞাপন
কী বলা হয়েছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হবে। তবে এ কারণে তিনি পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।
রিটকারী আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, এই বিধানের কারণে সংসদ সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী ভোট দিতে পারেন না। এতে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংসদীয় স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি আইনজীবীদের অবস্থান
রিটের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব উপস্থিত ছিলেন।
দুই পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন খারিজ করে দেন।
বিজ্ঞাপন
ফলে এ রিটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চলমান তফসিল স্থগিত করার যে আবেদন করা হয়েছিল, তা আর কার্যকর থাকল না।








