Logo

জিয়া হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর মোজাফফরের ফোনে মিলল অজানা তথ্য

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:১১
জিয়া হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর মোজাফফরের ফোনে মিলল অজানা তথ্য
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান | ফাইল ছবি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর তদন্তে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে বলে জানিয়েছেন পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার যোগাযোগ ও ডিজিটাল তথ্যকে ঘিরে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোজাফফরের ফোন ও তার সঙ্গে দেশের ভেতর-বাইরের বিভিন্ন ব্যক্তির যোগাযোগের তথ্য হত্যাকাণ্ডের অমীমাংসিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা।

গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তিনি প্রায় ৪৫ বছর পলাতক ছিলেন।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনায় বলা হয়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যার সময় মোজাফফর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর ওই কক্ষে নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর কার্যক্রমেও তার অংশগ্রহণের কথা বিভিন্ন বর্ণনায় উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

তার গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের সময় কার কী ভূমিকা ছিল, ঘটনার পর কী ঘটেছিল এবং এত বছর ধরে তিনি কীভাবে দেশের বাইরে অবস্থান করেছেন—এসব প্রশ্ন সামনে রেখে অনুসন্ধান চলছে।

মোজাফফরের ফোনে কী মিলেছে?

পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যু নিয়ে এখনো অনেক রহস্য রয়ে গেছে। এসব রহস্য উন্মোচনে মোজাফফর গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোজাফফরের সঙ্গে দেশের ভেতর ও বাইরের বেশ কিছু ব্যক্তির যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা কোনো রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, এত বছর পর কেন মোজাফফরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তিনি কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন এবং কার পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে অবস্থান করেছেন—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

মোজাফফরের ব্যাংক লেনদেন এবং দেশে অবস্থানের পেছনে কারও সহযোগিতা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তদন্তে ডিজিটাল এভিডেন্সও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মোজাফফরের ফোনের তথ্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

মেজর জেনারেল মঞ্জুরের মৃত্যু নিয়েও প্রশ্ন

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সেনানিবাসে ফিরে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃশ্যমান উচ্ছ্বাসের বিষয়টিও পুনঃতদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ প্রসিকিউটর।

ওই সময় সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগীদের একজন হিসেবে মেজর জেনারেল মঞ্জুরের নাম আলোচনায় আসে। গ্রেপ্তারের পর তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত কীভাবে এবং কার নির্দেশে হয়েছিল—এখন সেই প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তানভীর হাসান জোহা বলেন, তৎকালীন প্রশাসক কেন মঞ্জুরকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সিভিল এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তাকে কোন আইনি ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল—এসব বিষয় পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে।

মঞ্জুরের মৃত্যুর ঘটনাটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, মঞ্জুরের পোস্টমর্টেম কে করেছিলেন, কীভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিল?

বিজ্ঞাপন

জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিল এবং মেজর জেনারেল মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন—এই দুটি প্রশ্নকে এখনো অমীমাংসিত বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষ প্রসিকিউটর।

তিনি জানান, সেই সময়ের জীবিত সেনা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাদের তৎকালীন জুনিয়র কর্মকর্তাদের বক্তব্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নথি, অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে থাকা সংশ্লিষ্ট রিপোর্টও পর্যালোচনা করা হবে।

এসব তথ্য একত্র করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ওই সময়ের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

‘সিক্রেট পেপার’ ঘিরে নতুন প্রশ্ন

পুনঃতদন্তে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে প্রেসিডেন্টের একটি কথিত ‘সিক্রেট পেপার’। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিয়াউর রহমান হত্যার আগে বা পরে ওই নথি খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছিল—এমন কিছু তথ্য তারা পেয়েছেন।

তানভীর হাসান জোহা বলেন, ওই ‘সিক্রেট পেপার’ আসলে কী ছিল এবং জিয়াউর রহমানকে হত্যার পরও সেটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এত আগ্রহের কারণ কী—এসব বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির এবং ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়ও পুনঃতদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ প্রসিকিউটর।

৪৫ বছর পর পুনঃতদন্তে কতটা মিলবে উত্তর?

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। দীর্ঘ সময় পার হলেও হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

মোজাফফর হোসেনের দীর্ঘ পলাতক জীবন, দেশে তার প্রবেশ, বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং তার কাছে থাকা ডিজিটাল তথ্য এখন পুনঃতদন্তে নতুন সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তদন্তকারীরা পুরোনো নথি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তথ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং ডিজিটাল প্রমাণ একসঙ্গে বিশ্লেষণ করছেন। এসব অনুসন্ধান থেকে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে নতুন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বেরিয়ে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD