Logo

রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতি মামলায় সোহেল রানাসহ ৮ জনের রায় আজ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৯
রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতি মামলায় সোহেল রানাসহ ৮ জনের রায় আজ
ছবি: সংগৃহীত

সাভারের আলোচিত রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করবেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবীর মামলাটির রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত ১৬ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আদালত তা পিছিয়ে ১ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার আট আসামি হলেন—সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম, লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব এবং রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। রায় ঘোষণার দিন তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম পলাতক। জামিনে থাকা অন্য আসামিদেরও আদালতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

মামলার বিচার চলার সময়ে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। তাদের মৃত্যুর পর আদালত মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেন।

বিজ্ঞাপন

যে দুর্ঘটনা বদলে দেয় বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ইতিহাস

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। দেশের অন্যতম ভয়াবহ শিল্পদুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত ওই ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। নিহতদের বড় অংশ ছিলেন ভবনটিতে থাকা পোশাক কারখানার শ্রমিক। আহত হন আরও অসংখ্য শ্রমিক ও কর্মচারী।

ভবনটি ধসে পড়ার পর এর নির্মাণপ্রক্রিয়া, নকশা অনুমোদন, কাঠামোগত পরিবর্তন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদন নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

যেভাবে মামলার সূত্রপাত

নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলায় শুরুতে সোহেল রানাকে আসামি করা হয়নি। কারণ, সংশ্লিষ্ট সময়ে ভবনটি তার বাবা আবদুল খালেকের নামে ছিল।

পরবর্তী তদন্তে ভবনটির নির্মাণ, অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানায় দুদক। অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহেল রানা, তার বাবা-মাসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে অভিযোগ গঠনের সময় আটজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং ১০ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা ও মায়ের মৃত্যু হলে তাদেরও মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে আটজন আসামিকে ঘিরেই মামলাটির বিচার সম্পন্ন হয়েছে।

অতিরিক্ত তলা ও পোশাক কারখানার অনুমোদন নিয়ে অভিযোগ

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ‘রানা প্লাজা’ নামে ছয়তলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ভবনটির ওপর আরও চারটি তলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভবনটি শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে নির্মাণের অনুমোদন পেলেও পরবর্তী সময়ে সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নকশা অনুমোদন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।

১৯ সাক্ষীর সাক্ষ্য, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া

২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষ ২০ জন সাক্ষী উপস্থাপনের অনুমতি পেলেও আদালতে সাক্ষ্য দেন ১৯ জন।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া পার হয়ে মামলাটি এখন চূড়ান্ত রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার মধ্যে ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা এই মামলাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভবনের নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং সেখানে পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদন—প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে এ মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দীর্ঘ ১২ বছরের বেশি সময় ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আজ মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। রায়ে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দেন, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD