নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার আপিল শুনানি ১৭ নভেম্বর

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় আপিল বিভাগের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৭ নভেম্বর। ২০১৪ সালে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি এখন আপিল বিভাগের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের তিন দিন পর তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তাঁর বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
ঘটনার পর দুটি হত্যা মামলা করা হয়। নজরুল ইসলাম ও তাঁর চার সহযোগী হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করেন। অন্যদিকে আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় একই থানায় মামলা করেন চন্দনের জামাতা বিজয় কুমার পাল।
বিজ্ঞাপন
দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম একসঙ্গে সম্পন্ন করে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় ঘোষণা করেন। বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত নূর হোসেন এবং র্যাবের তৎকালীন তিন বরখাস্তকৃত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বাকি নয় আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
পরে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা থেকে মামলার নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। সেখানে পেপারবুক প্রস্তুত করে ওই বছরের ৭ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২২ মে থেকে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনতে হাইকোর্টের ৩৩ কার্যদিবস ব্যয় হয়।
২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ আসামির মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। অন্য ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাকি নয় আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডও বহাল থাকে।
বিজ্ঞাপন
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র্যাব-১১-এর চাকরিচ্যুত সাবেক তিন কর্মকর্তা—লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব.) মাসুদ রানা।
এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা অন্য ১১ আসামি হলেন র্যাবের চাকরিচ্যুত সাবেক হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, ল্যান্সনায়েক হীরা মিয়া, আরওজি-১-এর এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্সনায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহী আবু তৈয়্যব আলী, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক আলামিন শরীফ ও সৈনিক তাজুল ইসলাম।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১১ আসামির মধ্যে রয়েছেন র্যাবের চাকরিচ্যুত সাবেক সিপাহী আসাদুজ্জামান নূর ও সার্জেন্ট এনামুল কবির। নূর হোসেনের নয় সহযোগী মূর্তজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, আবুল বাশার, রহম আলী, জামাল উদ্দিন সরদার, ভারতে গ্রেপ্তার সেলিম, সানাউল্লাহ সানা ও শাহজাহানও এ তালিকায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড বহাল থাকা নয় আসামির সবাই র্যাবের বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা ও সদস্য। তাঁদের মধ্যে কনস্টেবল হাবিবুর রহমানের ১৭ বছর কারাদণ্ড বহাল রয়েছে। এএসআই আবুল কালাম আজাদ, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল বাবুল হাসান, কর্পোরাল মোখলেসুর রহমান, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন ও সিপাহী নুরুজ্জামানের ১০ বছর করে সাজা বহাল রাখা হয়। এএসআই বজলুর রহমান ও হাবিলদার নাসির উদ্দিনের সাত বছর করে কারাদণ্ড বহাল রাখেন উচ্চ আদালত।
বিজ্ঞাপন
হাইকোর্টের রায়ের পর আসামিরা আপিল করেন। সেই আপিলের শুনানির জন্য এবার ১৭ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।








